। রিলিফ সিলিপ চাই না।নদীর একটা বান্ধন হলে হামরা রক্ষা পায়ই। এভাবে কান্না জড়িতকন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের চোংগাডারা গ্রামের খালেদা বেগম (৪৫)।
চলতি বছর কয়েক দফা বন্যা ও নদীর ভাঙনে লালমনিহাটের পাঁচ উপজেলার ৯টি পয়েন্টে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, ফসলি জমি, স্কুলসহ বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা।
গত ১৫ দিনে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে প্রায় হাজারো পরিবার। পরিবারগুলোর ঠাঁই হয়েছে বিভিন্ন বাঁধের রাস্তায়।
এদিকে তিস্তার পানি কমা বাড়ার ফলে লালমনিরহাটের সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, দিঘলটারি, কালমাটি, চোংগাডারা, গোকুন্ডা, মোগলহাট আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্না, গড্ডিমারী ও পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামসহ জেলার প্রায় ৯টি পয়েন্টের দেখা দিয়েছে ভয়াভয় ভাঙন। এসব এলাকায় তিস্তার ভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি বসতভিটে, গাছ-পালা ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
প্রতিবছর তিস্তা নদী বালু দিয়ে ভরাট হওয়ার কারণে নদী গতিপথ পাল্টে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের মুখে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি রিলিজ স্লিপ চাইনা তিস্তা নদীর স্থায়ী বাঁধ চাই।
এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ভাঙনের মুখে পড়েছে চোংগাডারা উচ্চ বিদ্যালয়, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, খুনিয়াগাছ উচ্চ বিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা। নদীর কিনারায় পড়েছে নির্মাণাধীন চোংগাডারা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট ভবনসহ শতাধিক বসতবাড়িও।
নদী ভাঙনের শিকার হওয়া ফজর আলী জানান, এবার সহ ৮বার নদীতে ঘরবাড়ি ভেঙে গেল এবার আর কেহ আমাকে জায়গা দেয় না। তাই রাস্তার মুড়িত চালা খাটে সগায় মিলি থাকির নাকবে।
তিস্তা পাড়ের চোংগাডারা গ্রামের শেফারি বেগম (৪২) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, আমার স্বামী পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছে। বাড়িঘরের জিনিসপত্র ভেসে গেছে শুধু ট্রেনের ঘরটি রক্ষা করেছি। হামা কিছু চাইনা। নদীর বান্ধন হইলে আরও দশজন বাঁচিবে।
এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি এলাকার স্থানীয়রা জানান, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করার চেষ্টা করছে কিন্তু জিও ব্যাগগুলো ছোট তাই পানির তলে মুহূর্তেই ডুবে যাচ্ছে। বড় বড় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করা সম্ভব বলে মনে করি। পাশাপাশি স্থানীয়দের দাবি নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চায় তিস্তাপারের লাখো মানুষ।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, গত দেড় মাস থেকে তিস্তার ভাঙন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থাপনা রক্ষার জন্য জরুরিভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, নদী ভাঙনের শিকার হওয়া ভূমিহীন পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে তাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে।









