স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেনাকাটার জন্য মার্কেট খোলা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে। আজ রবিবার (২৫ এপ্রিল) তা কার্যকর হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, মানুষের জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দোকানপাট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
রবিবার সকালেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও দোকানিরা দোকান খুলেছেন। বড় মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে প্রধান গেটে ক্রেতাদের আটকে রেখে ভেতরে দোকানিরা পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছেন দোকান খুলেই। রাজধানীর গাউছিয়া, নিউ মার্কেটে প্রথম বেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিলো হাতেগোনা। তাই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব ছিলো। তবে দোকানগুলোতে প্রবেশের সময় জীবাণুনাশকের ব্যবহার চোখে পড়েনি। অবশ্য মাস্ক পরতে দেখা গেছে প্রত্যেককেই। ২-১ জন করে ক্রেতাও পাচ্ছেন বিক্রেতারা। বিক্রিও হচ্ছে টুকটাক। ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথাও বলেছেন।
দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ক্রেতাদের মাঝে। কেউ দামের চেয়ে প্রয়োজনটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন, কেউ বলছেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম ঠিকই আছে।
ক্রেতা মার্কেট-শপিংমল খুললেও গণপরিবহণ চালু না হওয়ায় যাতায়াত বা রাস্তায় চলাচল নিয়েও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ ভোগান্তি পোহাতে পোহাতে এসেছেন। কেউ এসেছেন সাচ্ছন্দ্যে।
মার্কেট সমিতি বলছে, খোলার রাখার সময়টা বাড়ালে সবদিকেই ভালো। নিজেদের মতো করে ক্রেতারা আসতে পারেন, তাতে বিক্রিও ভাল হবে ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সুবিধা হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় বিক্রি করে নিত্যদিনের খরচ উঠবে কিন্তু মুনাফা আসবে না।
এদিকে, পাড়ামহল্লার সব দোকানপাট সকাল ৯টা থেকে খুলেছেন দোকানিরা। তবে, সেসব দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই দেখা যায়নি।
এর আগে, করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকার ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বিধিনিষেধ আরোপ করলে এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মাঠে নামে। আন্দোলনের মুখে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। পবর্তীতে করোনায় মৃতের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে থাকলে ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে আবারো বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট ও শপিংমল। তবে কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিক্রি করা যাবে বলে জানানো হয়।
আনন্দবাজার/শহক








