উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজানে টানা বর্ষণের ফলে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মহারশি নদীর খৈলকুড়া বাঁধ ভেঙে দু’কুল উপচে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢলের পানি প্রবেশ করে ঝিনাইগাতী সদর, ধানশাইল ও কাংশা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ও নালিতাবাড়ীর ভোগাই ও চেল্লাখালি নদীর পানি প্রবেশ করে যোগানিয়া ইউনিয়নের আরও ৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে ওইসব এলাকার হাজারো মানুষ। ভেসে গেছে দেড় শতাধিক পুকুরের মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ও সবজির আবাদ। ঢলের পানিতে তলিয়ে বেশ কিছু রাস্তা ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । এদিকে ঢলের পানিতে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তাটি ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং উপজেলা পরিষদের ভবনের নিচ তলায় বিভিন্ন অফিসের ভিতর ও হাজী অছি আমরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইলপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝিনাইগাতী বাজারে পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে মসজিদ রোড (কাঁচা বাজারে) হাটু পানি জমে যায়।
অপরদিকে উপজেলার ঝিনাইগাতী সদর, দিঘীরপাড়, রামনগর, চতল, আহাম্মদনগর, বনকালি, ধানশাইল, কুচনীপাড়া, বাগেরভিটা, কাংশা, হাতীবান্ধা, লয়খা, কামারপাড়া, পাগলার মুখ, দাড়িকালিনগরসহ ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ভোগাই নদীতে নৌকা ডুবে ইব্রাহিম মিয়া (৩৮) নামে এক মনোহারী ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সহায়তা প্রদানের আশ^াস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২১২ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ২০ হেক্টর জমির আউশ আবাদ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৩ হেক্টর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ৭৪০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে, তন্মধ্যে ৩৮ হেক্টর জমির সবজির ক্ষতি হয়েছে। এতে ৩০ হেক্টর জমির সবজির সম্পূর্ণ ক্ষতি ও ৮ হেক্টর জমির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ বলেন, ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের খৈলকুড়া নামক স্থানে মহারশী নদীর বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিম্নাঞ্চলের বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সরেজমিনে কিছু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। উপজেলা কৃষি দপ্তরসহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঝিনাইগাতীতে প্রতিবছরই মহারশী নদীর বাঁধ ভেঙে অথবা নদীর দু’কুল উপচে শহর এলাকায় পানি প্রবেশ করায় ব্যবসায়ীসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের ফাইলপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহররক্ষার স্বার্থে মহারশি নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।









