পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এলজিইডি বিভাগের ৭টি খালসহ ১৬টি খাল খনন করায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক সমৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা। সম্প্রতি উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে এলজিইডি বিভাগের বাস্তবায়নে সম্পন্ন হয়েছে খাল খননের কাজ। এই খাল খননের ফলে এলাকার কৃষি জমি আবাদের উপযোগী হয়েছে। সেইসাথে জমি চাষাবাদেও সুবিধা ভোগ করছেন কয়েক সহস্রাধিক কৃষক। যার ফলে কৃষি ও মৎস্য চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা ওই এলাকার কৃষকদের। এতে বদলে যাবে প্রায় ৭টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক কৃষকের ভাগ্য। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে জমিতে সেচকাজ পরিচালনা সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। এছাড়াও উপজেলা কৃষি বিভাগের আওতায় কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর উদ্যোগে ৭টি খালের ১৪ কিলোমিটার ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে ২টি খালের প্রায় ৩ কিলোমিটার খনন করা হয়।
উপজেলা এলজিআরডি অফিস সূত্রে জানাযায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ এর মাধ্যমে কামারের খাল, পূর্ব আউড়া খাল, মঙ্গলের খাল, নাপিতের খাল ও যুগির খালসহ ৭ টি খালে মোট ১১ কিলোমিটারের খননের কাজ গত ৩০ এপ্রিল শেষ হয়।
কৃষক জলিল ফকির, আলতাফ খাঁ ও রফিক আকন বলেন, খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়াতে পানির অভাবে সময়মতো চাষাবাদ করতে পারতাম না। এগুলো খননের ফলে এখন ঠিক সময়ে ক্ষেতে পানি আসায় সঠিক সময়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারবো এবং ফসলও বেশি উৎপাদন হবে।
স্থানীয় মৎস্য চাষি মোঃ সোহেল বলেন, খাল খননের পরে পানি স্বল্পতা থাকবে না। খালের দু'পাড়ে উঁচু রাস্তা হওয়াতে নানা ধরনের ফসল ফলাতে পারবো। মাছের সাথে সবজি চাষ করা যাবে। এজন্য মাছ চাষে খুবই উপকার হবে।
আমড়াগাছিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান লিটন বলেন, আমরা সিডিউল মোতাবেক এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করেছি। যার ফলে এই এলাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক সমৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আশিকুর রহমান জানান, এলজিইডি টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে রবি মৌসুমে ফসলের ব্যাপক অগ্রগতি হবে, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ, এক ফসলীয় জমিকে বহু ফসলীয় জমিতে রূপান্তরিত করা এবং ফসলের নিবিরতা বৃদ্ধি, পতিত জমির পরিমাণ কমছে। যার ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও কৃষি শ্রমিকের সারা বছরই কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এলাকাবাসীর কৃষি ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এ খাল খননের ফলে ওই এলাকার কৃষি ও মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য অনুসারে কোন আবাদী জমি পতিত রাখা যাবে না। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সমস্ত জমিগুলোকে আবাদি জমিতে রূপান্তরিত করতে হবে।









