- বন্ধ হচ্ছেনা তেল নিয়ে তেলেসমাতি
চট্টগ্রামে পাইকারিতে আবারো মণ প্রতি পাচঁশত টাকা বাড়লো ভোজ্যতেলের দাম
চট্টগ্রামে ভোজ্য তেলের বাজারে তেল নিয়ে তেলেসমাতি বন্ধই হচ্ছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো মণপ্রতি ভোজ্যতেলে দাম বেড়েছে ৫শ’ টাকা। সে সঙ্গে বাজারে পাঁচ লিটার বোতলজাত ও খোলা সয়াবিনের যোগান তুলনামূলক কমে গেছে। অন্যদিকে সবজি, মুরগি কোনো কিছুতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ রোজাদারদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারা এসব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
সূত্রে প্রকাশ, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত ৬ এপ্রিল আবারো তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল মিল মালিকরা। তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাদের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ঈদের পর এ বিষয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত দেয়। এরপর থেকে নতুন করে বাড়তে শুরু করে ভোজ্যতেলের দাম।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের বনেদি পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের মণে ৫শ’ টাকা বাড়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারেও। পাইকারিতে এখন প্রতিমণ সয়াবিন তেল (৩৭ দশমিক ৩২) ৫শ’ টাকা বেড়ে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মণে ৩শ’ টাকা বেড়ে পামতেল ৫ হাজার ৮শ’ টাকায়। অপরদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক খুচরা বাজারে প্রতিলিটার সয়াবিন তেল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবার কথা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। খোলা সয়াবিন ১৩৬ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও সরবরাহ কম দেখিয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকার উপরে।
জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও আমাদের দেশে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এরপরও তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। কাজেই কারা কারসাজি করে পণ্যটির দাম বাড়াচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বলেন, ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা যথেষ্ট আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মিলগুলো পরিদর্শন করছি। তেলের ডিও ঠিকমত আছে কিনা তা তদারকি করছি। মূল্য যাচাই করছি। সমস্যা হল আমরা অভিযানে গেলে অনেকেই পালিয়ে যান। অথবা অভিযানের পর অসাধু ব্যবসায়ীরা আবার আগের চরিত্রে ফিরে যান। কাজেই আমরা যেমন সজাগ রয়েছি, ভোক্তা সাধারণ কেউ ভোগান্তি শিকার হলেই আমাদের কাছে নাম ঠিকানাসহ অভিযোগ দিন। আমরা ব্যবস্থা নেবো।
এদিকে মাংসের বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০ ও খাসি ৯শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালি ৩৩০ টাকা ও লেয়ার ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রমজানকে পুঁজি করে বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ টাকার উপরে। বাজারে প্রতিকেজি বেগুণ ৫০ থেকে ৬০, গাজর ৫০, টমেটো ৪০, শসা ৫০ থেকে ৬০, ঢেঁড়স-বরবটি ৮০, কাকরোল ১৪০, কাচামরিচ ৫৫ ও আলু ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি নাই। রোজায় সবজির চাহিদা বাড়ে। এ কারনে পাইকাররা দাম বাড়াইয়া দেয়। তাই আমাদেরও খুচরা বাজারে কিছু বাড়তি মূল্যে মাল বিক্রি করতে হয়।









