বগুড়ার গোলজার হোসেন। একজন সফল উদ্যোক্তা। প্রতিবন্ধতাকে জয় করে প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। খুচরা দোকান থেকে পাইকারি দরে কেনা পুরাতন প্লাস্টিক ভেঙেই লাখপতি তিনি। প্রায় ১৩ বছর পূর্বে মাত্র ১০ হাজার টাকা নিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌরসভার দহিলা গ্রামে রাস্তার পাশে ব্যবসা শুরু করেন। একসময় অভাবের সংসারে চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন কাটালেও এখন তার বার্ষিক লাভ প্রায় ২ লাখ টাকা। কর্মের সুযোগ দিয়েছেন ৮ জন বেকারকে।
বগুড়া জেলাধীন শিবগঞ্জ পৌরসভার দহিলা গ্রামে বসবাস ৫০ বছর বয়সী গোলজার হোসেন। পারিবারিক দৈন্যতার মাঝেই যুবক বয়স পার করেছেন। বিভিন্ন কাজের সন্ধান করেছেন, কাজ করেছেনও। অতৃপ্ততায় হতাশার একপর্যায়ে বগুড়া শহরের পুরাতন প্লাস্টিক ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম তার নজর কাড়ে। ২০০৯ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকায় ক্ষুদ্র পরিসরে শিবগঞ্জের বিহার রোড সংলগ্ন দহিলা এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যবসা শুরু করেন গোলজার হোসেন। ধীরে ধীরে জীবিকার মাধ্যম হয়ে উঠে এটি। বাড়তে থাকে ব্যবসার পরিধি। ১০ হাজার টাকায় শুরু করা প্লাস্টিকের ছোট্ট ব্যবসাটিই আজ আলো ছড়িয়েছে তার জীবনে।
গোলজার হোসেন জানান, হাতাশার পর নিজস্ব উদ্যোগে শুরু করা ব্যবসার নাম দিয়েছেন বিসমিল্লাহ প্লাস্টিক হাউস। প্রথমে খানিকটা লোকসান হলেও এখন ব্যবসায় সফল তিনি। প্রতিষ্ঠানে ৮ জন কর্মীকে বেতন দিতে হয় প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়নসহ নিয়মিত বিভিন্ন রকম খরচ হয়। সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা ব্যবসায়ীক লাভ থাকে প্রতিবছর।
গোলজার হোসেন মুলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রামগঞ্জের ফেরিওয়ালাদের থেকে পুরাতন প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করেন শ্রেণিভেদে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা দরে। রংভেদে বাছাই করে কাটিং মেশিন দিয়ে কয়েকটি প্রক্রিয়ায় গুড়ো করেন। এরপর ২০ থেকে ৩০ কেজি প্রতি ভিন্ন ভিন্ন বস্তায় সংরক্ষণ করা হয়। সবশেষে প্রতি বস্তাপ্রতি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বগুড়া ও ঢাকায় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, ৪ জন সন্তান নিয়ে একসময় টানাপোড়েন সংসার চললেও গত ১৩ বছরের এ ব্যবসা থেকে ৩ জন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, এক ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছি, জায়গা-জমি কিনেছি, স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে এখন বেশ ভালো আছি। ছেলে জিলহজ্ব পড়াশোনার পাশাপাশি আমার ব্যবসাতেও সহযোগীতা করছে। ভবিষ্যতে আমি নিজেই পরিপূর্ণ প্রোডাকশন করতে চাই।
গোলজার হোসেন ছাড়াও বগুড়ার অসংখ্য জায়গায় প্লাস্টিক ভাঙার এ ব্যবসা চলছে। কর্মের সুযোগ দিয়েছেন অনেক বেকারকে। সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা পরিবেশের ব্যাপক উপকার করছে। এর ফলে দূষণের হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়া কর্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ আনন্দবাজারকে বলেন, পুরাতন প্লাস্টিক যত্রতত্র পড়ে থাকলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, যা আমাদের ফসল উৎপাদনে প্রভাব ফেলে এবং পরিবেশর ভারসম্য নষ্ট করে। পুরাতন প্লাস্টিক সংগ্রহ করে নতুন প্রোডাক্ট তৈরীর প্রক্রিয়ায় উদ্যোক্তারা নিশ্চয় প্রসংশার কাজ করেন, আমরা তাদের সাদুবাদ জানাই।









