চলতি বছেরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৩ শতাংশ। ২০১৯ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে দেশে নিট এফডিআই এসেছে ১৬৯ কোটি ১৬ লাখ ইউএস ডলার, এর আগের ছয় মাসের তুলনায় যা ৫০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জরিপে এসব তথ্য ওঠে আসে। যেখানে ২০১৮ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে নিট এফডিআই প্রবাহ ছিল ২১৯ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট ইক্যুয়িটি ক্যাপিটাল) কমে যাওয়া এবং ঋণ আকারে আসা বিদেশি বিনিয়োগের (ইন্ট্রা-কোম্পানি লোন) কারণেই এই ছয় মাসের নিট এফডিআই কমেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) নিট ইক্যুয়িটি ক্যাপিটাল এসেছে ৪০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে নিট ইক্যুয়িটি ক্যাপিটাল এসেছিল ৭৮ কোটি ৬২ লাখ ডলার। সে হিসেবে আলোচিত সময়ে নিট ইক্যুয়িটি ক্যাপিটাল কমেছে ৩৭ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ৪৮ শতাংশ।এছাড়া ইন্ট্রা-কোম্পানি লোন কমেছে ১৫ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ঋণ আকারে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৬১ কোটি ১৩ লাখ ডলার। এর আগের ছয় মাসে এ ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ৭১ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। চলতি বছর জানুয়ারি-জুন সময়ে পুনর্বিনিয়োগ এসেছিল ৬৭ কোটি ১৩ লাখ ডলার। আগের ছয় মাসে পুনর্বিনিয়োগ এসেছিল ৬৯ কোটি ২১ লাখ ডলার।
খাতভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগের তথ্যে দেখা যায়, এ সময়ে বিদ্যুৎ খাতে নিট এফডিআই বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। তবে খাদ্য খাতে নিট এফডিআই কমেছে ৭১ শতাংশ কমেছে। ব্যাংক খাতে নিট এফডিআই কমেছে ১৭ শতাংশ, বস্ত্র ও পোশাক খাতে নিট এফডিআই কমেছে ৫৯ শতাংশ, টেলিকম খাতে নিট এফডিআই কমেছে ৬১ শতাংশ।
বিদেশি বিনিয়োগ কমার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর ফোর-জি লাইসেন্স দেওয়ার পর এ খাতে বিনিয়োগ করেছিল বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটররা। তবে এ বছর সে ধরনের বড় বিনিয়োগ হয়নি। উল্টো নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বড় দুই অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটার টানাপড়েনে বিনিয়োগ কমে গেছে। আর পোশাক খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। বরং অনেক কোম্পানি এখন ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে। এতে বাংলাদেশ বাজার হারাচ্ছে।
এদিকে এ সময়ে সবচেয়ে বেশি নিট এফডিআই এসেছে চীন থেকে, ১১৫ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। নেদারল্যান্ডস থেকে নিট এফডিআই এসেছে ৮০ কোটি ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে নিট এফডিআই এসেছে ৩৬ কোটি ডলার।









