বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসিকে নিয়ে বৈঠক ৭ ডিসেম্বর
পুঁজিবাজারে উত্থান পতন নিয়ে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা তৈরি হয়েছে। আর সে কারণে বর্তমানে দেশের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এক অপরের পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, দীর্ঘ মন্দার পর চলতি বছরে পুঁজিবাজার জেগে ওঠেছে। এরই মধ্যে বাজারের উত্থান পতন নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে এক ধরনের বিরোধ বা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বেশি থাকতে দেওয়া যাবে না। শিগগিরই সমাধান করতে হবে। তাদের কথা, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন স্বার্থে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক হতে হবে, এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। না হলে পুঁজিবাজারের সামনের দিন ভালো যাবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিনিয়োগকারী।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির বিভিন্ন জটিলতা সমাধানে গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নাহিদ হোসেন সই করা এ সংক্রান্ত চিঠির মাধ্যমে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মতবিরোধের মধ্যে এবার পুঁজিবাজার নিয়ে আগামী ৭ ডিসেম্বর বৈঠকে বসতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পুঁজিবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএসইসি চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
এর আগে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ওই সাক্ষাতে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিযয়ে আলোচনা হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। এই আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম । আলোচনার ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা এক বাক্যে ‘সুপার হয়েছে’।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষে দুই সংস্থার সমন্বয়ে গত মঙ্গলবার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর একেএম সাজেদুর রহমান এবং বিএসইসির পক্ষে কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ। বৈঠকে ইস্যু ছিল- কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান থাকলেও লভ্যাংশ বিতরণ, বিএসইসির মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগকে ক্রয়মূল্যে হিসাব করা এবং বন্ডের বিনিয়োগ শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের বাইরে রাখা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত ব্যাপারে বিএসইসির পক্ষ থেকে ওইদিন সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়।
বৈঠক প্রসঙ্গে বিএসইসির কমিশন ড. শামসুদ্দীন জানান, এসব বিষয়ে দুই সংস্থা একমত হয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, বিএসইসির বরাত দিয়ে যেসব সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হয়েছে, তা সঠিক নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দাবিকৃত মূলধনের টাকা স্টাবিলাইজেশন ফান্ডে হস্তান্তর আইনসম্মত নয়। বিএসইসির প্রতিনিধি দলকে গত মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের বিনিয়োগের ব্যাপারে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি বিরোধ প্রকাশ্যে এলো।
আনন্দবাজার/এজে









