সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও পেনশনসহ যাবতীয় ভাতা ও সুবিধা নিজ নিজ হিসাবে সহজে জমা করার সফটওয়্যার নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে খুব সহজেই মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিধবা, বয়স্ক, পঙ্গুত্ব, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ভাতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি জমা করা যাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিল, জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূলধনও জমা করা যাবে। সরকারি চাকুরেদের জন্য এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক গেল ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে নয় কোটি গ্রহীতার ব্যাংক হিসাবে সরাসরি সরকারি অর্থ পাঠিয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। নতুন এই সফটওয়্যার যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। তারা আরো বলেন, সরকারি বিভিন্ন সেবা স্বল্প সময়ে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হলো ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য। আগে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে ৩-৬ মাস সময় লাগতো। কিন্তু ইএফটির মাধ্যমে এখন তা মুহূর্তে পৌঁছে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এ সফট্ওয়্যারটির মাধ্যমে এ সেবা এখন আরও দ্রুততর হবে। এর ফলে সময় যেমন বাঁচবে একই সঙ্গে সরকারের খরচও কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের পেমেন্ট গেটওয়ে হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় হ্রাস করার কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার। নতুন এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইএফটি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইনহাউজ সফটওয়্যারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করার মধ্য দিয়ে যেমন নিজেদের প্রয়োজন মতো সফটওয়্যার তৈরি করছে একই সঙ্গে এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহজ লেনদেনের এই সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। নতুন এই সফটওয়্যার যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষামূলক পরিচালনা শেষে (গভর্নমেন্ট ই-ট্রানজেকশন প্রসেসিং হাব সফটওয়্যার) এটির উদ্বোধন করা হয়েছে।
সূত্রমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব লোকবল দ্বারা উদ্ভাবিত ১২৯টি সফটওয়্যারের মধ্যে ১২৪টি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। তৃতীয় পক্ষ থেকে কেনা ১০টি সফটওয়্যারের বিকল্প নিয়েও বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। নতুন এই সফটওয়্যার সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার অক্ষুন্ন রেখেছে।
ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বর্তমান সময়ে এ সমন্বয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে।









