করোনাকালীন বিশ্ব পর্যটনে হোঁচট লাগলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। আর সেটার প্রমাণ মিলেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক প্রতিবেদনে। আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বলছে ভ্রমণ ও পর্যটনে বিশ্বের শীর্ষ দেশের তালিকায় ৩ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ।
সংস্থাটির ২০১৯ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৩তম, এবার ১০০তম। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে অবস্থান তৃতীয়, শীর্ষে রয়েছে ভারত। গত মঙ্গলবার ডব্লিউইএফ ‘দ্য ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স-২০২১: রিবিল্ডিং ফর এ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিজিলিয়েন্ট ফিউচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে এই সূচক প্রকাশিত হয়েছে।
যেখানে দেশগুলোর ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, টেকসই ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সূচকটি তৈরি করা হয়। বিমান পরিবহণ অবকাঠামো, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, বাসস্থান, টাকার মান ও স্থিতিশীল ভ্রমণের সুযোগসহ ৯০টি মানদণ্ড বিবেচনা করে ১১৭ দেশের র্যাংকিং করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সদ্য বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাবেদ আহমেদ দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের একটি সঠিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। করোনাকালীন দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের যে উত্থান হয়েছে তা বিবেচনায় এসেছে। আমাদের ডেসটিনেশন ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিকেশন, ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদনে বিবেচনা করা হয়েছে। হসপিটালিটি- রিসোর্ট খাতে একটি নতুন ডাইমেনশন তৈরি হয়েছে। তাছাড়া সেবার মান আমরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। এ গতিতে চলতে থাকলে আমরা আরো দুই/তিন ধাপ এগিয়ে যাব।
বৈশ্বিক এ তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে এশিয়ার দেশ জাপান। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে স্পেন। চার থেকে দশ নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও ইতালি। গত বছরের শীর্ষ দশে বেশ পরিবর্তন হয়েছে। যেমন, যুক্তরাজ্য পাঁচ ধাপ পিছিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান ৫৪তম। গতবারের তালিকায় দেশটির অবস্থান ছিল ৪৬তম। অর্থাৎ ৮ ধাপ পিছিয়েছে। ছয় ধাপ এগিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ৮৩তম। ২০১৯ সালে ছিল ৮৯তম। এছাড়া নেপালের অবস্থান ১০২তম। দেশটি গতবারের সূচকেও একই অবস্থানে ছিল।
সামগ্রিক আন্তর্জাতিক পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ এখনো প্রাক-মহামারি স্তরের নিচে রয়েছে। তালিকার একেবারের তলানিতে আছে চাদ। এরপর আছে ইয়েমেন, মালি, সিয়েরা লিওন, অ্যাঙ্গোলা, ক্যামেরুন, লেসেথো, নাইজেরিয়া, মালাউ ও ভেনিজুয়েলা।
প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস মহামারি ধাক্কার পর বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধারের তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, এ খাতে পুনরুদ্ধার হলেও গতি মন্থর এবং অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সূচকে ১১৭টি দেশের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে টেকসই ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আলোচনার টেবিলে পর্যটনের চারটি দিক গুরুত্ব পাচ্ছে। এগুলো হলো প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ, বিমান পরিবহণ পরিকাঠামো, জাতীয় ভ্রমণ ও পর্যটন নীতি এবং উপযুক্ত পরিবেশ (নিরাপত্তা থেকে শুরু করে শ্রমবাজারের স্বাস্থ্যবিধি)।
আনন্দবাজার/শহক









