- রাজবাড়ীতে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার পটল বিক্রি
- আবহাওয়া ও মাটি উর্বরে ফলন বাম্পার
পদ্মা নদী তীরবর্তী জেলা রাজবাড়ী। এ জেলায় পদ্মা নদীর জেগে ওঠা চর ও স্থলভাগের মাটি পটল চাষে অধিক উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উচ্চমূল্যের সবজি হিসেবে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় জেলায় চলতি বছরে ৪৭৫ হেক্টর জমিতে পটল আবাদ করেছেন চাষিরা। হেক্টর প্রতি ৪১২ মণ পটল উৎপাদিত হয়েছে। সে হিসেবে ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০০ মণ পটল উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি মণ পটলের গড় মূল্য ৮০০ টাকা হিসেবে যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৬৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার বেশি।
রাজবাড়ী জেলার পদ্মা নদীর চরসহ জেলার ৫ উপজেলা সদর, গোয়ালন্দ, বালিয়াকান্দি, পাংশা ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রতন্ত অঞ্চলে কানাইবাঁশি ও কাজলা জাতের পটল চাষ করেছেন চাষিরা। জেলার সদর উপজেলার মূলঘর, শহিদওহারপুর, সুলতানপুর এলাকায় পটলের বেশি আবাদ হয়ে থাকে।
রাজবাড়ী জেলা সদরের মূলঘর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম মন্ডল বলেন, গত ৩৫ বছর ধরে কৃষি কাজ করছি। ধান, পাট, গমসহ বিভিন্ন প্রকারের শাক সবজি চাষাবাদ করেই চলে আমার সংসার। চলতি মৌসুমে ১৫ শতাংশ জমিতে কাজলী জাতের উচ্চমূল্যের পটল চাষ করেছি। একটি মাচা থেকে ২৫ কেজির বেশি পটল পেয়েছি। বাজারে দাম ও পেয়েছি ভালো। শুরুর দিকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে বিক্রি করছি।
আরেক চাষি ইসহাক শেখ বলেন, আমি ১০ শতক জমিতে পটল চাষ করেছি। এবার বন্যা, অতিবৃষ্টি না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রাজবাড়ীতে পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
পটল চাষি আবুল শেখ বলেন, এবার ১০ শতাংশ জমিতে কাজলা জাতের পটলের চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পটলের ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে পটলের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ, জৈব সার, বালাইনাশক, মাচাসহ এক বিঘা জমিতে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। তবে ফলন ভালো হলে তা বিক্রি করে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। আমাদের রাজবাড়ী জেলার পটল বিষমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। তাই পাইকাররা আমাদের ক্ষেত থেকেই পটল কিনে নিয়ে যায়।
আরেক চাষি আব্দুল গফুর বলেন, এ বছর পটল আবাদ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দাম ভালোই পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া পটল চাষে খরচও কম। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়া যায় বলে অনেক কৃষক দিন দিন পটল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন সেক জানান, পটল আমাদের খুব পরিচিত একটি সবজি। পটলের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ রয়েছে অনেক। পটলে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ১, ভিটামিন বি ২ এবং ভিটামিন সি সহ আরোও অনেক দরকারি উপাদান রয়েছে। পটলে খুব কম পরিমানে ক্যালরি রয়েছে ফলে এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। পটল তরকারি হিসাবে আমরা বিভিন্ন ভাবে খেয়ে থাকি। এটি ভাজি, ভর্ত্তা ও রান্না করে খাওয়া যায়। বর্তমানে পটল আয়ুর্বেদে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি গ্যাসট্রিক সমস্যার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এস.এম সহীদ নূর আকবর জানান, চলতি বছর রাজবাড়ী জেলায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে পটল আবাদ করেছেন চাষিরা। হেক্টর প্রতি ৪১২ মণ পটল উৎপাদিত হয়েছে। সে হিসেবে ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০০ মণ পটল উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি মণ পটলের গড় মূল্য ৮০০ টাকা হিসেবে যার আর্থিক মূল্য ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি। রাজবাড়ী জেলার মাটি উর্বর হওয়ায় সবজি চাষে কয়েক বছর ধরে পটল, করলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষকদের মাঝে এক নীরব বিপ্লব ঘটেছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে অনেক চাষি পটলসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। পটল চাষ উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিত চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।









