এখনও লকডাউনের এর অজুহাতে বাংলাদেশী কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থান করে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠেছে নিউ হোপ ফার্মস নামের একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে করে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মীরা। পোল্ট্রি শিল্প ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি ময়মনসিংহের ভালুকা থানায় অবস্থিত। কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে তাদেরকে বাইরে পাঠালেও মিলছে না তাদের নির্ধারিত ছুটি ।
এদিকে ৮ মার্চ সোমবার প্রতিষ্ঠানের কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট বিভাগের কাজের সময়সূচির উপর নির্ভর করে বাংলাদেশী কর্মীরা মাসে একবার শিফট ছুটিতে আবেদন করতে পারবেন, তাও বিনা বেতনে। তবে ছুটি কাটিয়ে আসার পর সাত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর এসময় মূল বেতনের মাত্র ৬০ শতাংশ প্রদান করা হবে, বাকী অংশ কেটে রেখে দেওয়া হবে।
এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে, যদি কোনও কর্মী এক মাসে একাধিকবার ছুটির জন্য আবেদন করে, ছুটি এবং কোয়ারেন্টিনে থাকাকালে তাদের কোন বেতন দেয়া হবেনা। যারা এক মাসে কোন প্রকার ছুটি কাটাবে না তাদেরকে বেতনের সাথে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, চীনা কোম্পানি নিউ হোপ গ্রুপ বাংলাদেশে তাদের ৩ টি প্রতিষ্ঠান নিউ হোপ ফিড মিল বাংলাদেশ লিমিটেড, নিউ হোপ এগ্রোটেক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং নিউ হোপ ফার্মস বাংলাদেশ লিমিটেড এর মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লকডাউন ঘোষণা করা হয় এবং আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে একদিনও সাধারণ ছুটি দেওয়া হয় নি।
২০২০ সালের জুন মাসের ১ তারিখ থেকে সরকার সারাদেশ থেকে লকডাউন তুলে নিলে নিউ হোপ ফিড মিল বাংলাদেশ লিমিটেড ও নিউ হোপ এগ্রোটেক বাংলাদেশ লিমিটেড বাড়তি সতর্কতা বজায় রেখে তাদের লকডাউন তুলে দেন। তবে দুটি প্রতিষ্ঠান লকডাউন তুলে নিলেও নিউ হোপ ফার্মসে এখনো লকডাউন বহাল রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মী জানান, অফিসের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য আমাদের বাহিরে পাঠানো হচ্ছে। অথচ আমরা আমাদের নির্ধারিত ছুটিগুলো পাচ্ছিনা না। আমাদের নিকট আত্মীয় মারা গেলে কিংবা নিজে অসুস্থ হলেও বাইরে যেতে পারছিনা। ঈদের সময় নিউহোপ ফিড মিল ও নিউহোপ এগ্রোটেকের কর্মীরা বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারলেও আমরা নিউ হোপ ফার্মসের কর্মীরা এক প্রকার বন্দী অবস্থায় ঈদ কাটাতে হয়েছে প্রজেক্টের ভেতর। প্রায় এক বছর যাবত পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছি আমরা।
তাছাড়া তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, বাংলাদেশে বিনা বেতনে এরকম ছুটি সিস্টেম কোথাও আছে কিনা আমাদের জানা নেই। এটা এক প্রকার আমাদের সাথে অন্যায় হচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নিউ হোপ ফার্মস বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, এখানে আসলে আমাদের তেমন কিছু করার নেই। উপর থেকে আমাদের চীনা পরিচালকরা যা নির্দেশনা দিয়ে থাকেন আমরা তা পালন করে থাকি। আমি নিজেও একই নিয়মে কাজ করে যাচ্ছি।
ময়মনসিংহ -৫ এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ মানিক উজ্জামান বলেন, আমরা মৌখিকভাবে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রতিষ্ঠানটিতে যাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। এই বিষয়ে আজ (৮ মার্চ) একটি আলোচনা সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মিটিং এর কোন আপডেট এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি। তাছাড়া এ বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা ইতোমধ্যে অভিহিত করেছি।
আনন্দবাজার/শহক







