করোনাকালীন গত দুই বছর দর্জি পাড়ায় মন্দাভাব গেলেও আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এবার গাইবান্ধার দর্জিপাড়া জমে উঠেছে। দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। মালিকরাও কাজ নিয়ে মহাব্যস্ত। তবে মজুরি নিয়ে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। বসে থাকার চেয়ে এবার ঈদের ব্যস্ততা নিয়ে বেশি খুশি কারিগররা।
করোনাকালীন দুই বছর অন্যান্য ব্যবসার মতো ঝিমিয়ে পড়ে দর্জি পাড়ার ট্রেইলারগুলো। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জে, পলাশবাড়ি, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৪ শতাধিক দর্জি কারখানার দরোজা বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পড়ে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১১ হাজার শ্রমিক। কোনো মতে দিন পাড়ি দিলেও এবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে টেইলর মালিক ও দর্জি শ্রমিকরা। কাষ্টমারও কম নয়। কাজও ভালো, মজুরিও বেশি পাচ্ছেন। কাটা কাপড়ের দোকানি ও ক্রেতারা ব্যস্ত। পছন্দের পোশাক বানাতে কাপড় কিনেই যাচ্ছেন দর্জি দোকানগুলোতে। কাজের ব্যস্ততা নিয়ে শ্রমিকরা তাদের দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মার্কেটের দর্জি কারিগর ও মাস্টারা নর-নারীর পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সময় আর আধুনিকতা এসবের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিত্যনতুন পোশাক তৈরিতেই এখন তাদের মনোযোগ। কখনও সালোয়ার কামিজ বা কখনো পাঞ্জাবি তৈরিতে মেশিন অবিরত চলছে খরখর শব্দ। দর্জিপাড়ায় কর্মব্যস্ত নারী-পুুরুষ কর্মীরা। জমছে নতুন পোশাকের সারি। গেল দুই বছর করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আর গ্রাহকের হাতের সময় মতো প্রিয় পোশাক তুলে দিতে কম্যব্যস্ততা দর্জি পাড়ায়। রোজার প্রথমদিকে কাপড় তৈরির অর্ডার নেওয়া শেষ করা হয়। ২৫ রমজান পর্যন্ত কাজ করা হয় বলে জানিয়েছে দর্জি মালিকরা। পোশাকের মজুরি অন্যান্য সময়ে একটি প্যান্টের মজুরি নেওয়া হয় ৩শ’ টাকা। তবে ঈদের সময় কারিগরদের পারিশ্রমিক বেড়ে যাওয়ায় এর মজুরি দাঁড়ায় ৪শ’ টাকা। অন্যদিকে শার্টের মজুরি ২শ৫০ টাকার পরিবর্তে ৩শ’ টাকা। অন্যদিকে নারীদের বোরকা ১ হাজার ৫শ’ টাকার থ্রি পিছ ২শ’ টাকা করে হয়।
কাটা কাপড়ের ব্যবসায়ী মামুন বলেন, ঈদের আর কয়েদিন আছে। তাই শুরু হয়েছে কেনাকাটা। করোনার কারণে গত দুই বছর ঈদের তেমন একটা বেচাকেনা হয়নি। তাই গত দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ায় চেষ্টা আছে। আশা করি ২৭ রোজার পর বেচাকেনা আরও বাড়বে।
কাচারি বাজারের কামরুল ইসলাম চাঁন টেইলার্সের মালিক বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে ঈদের মার্কেট এতো জমজমাট ছিলো না। তাই আমাদের ব্যস্ততাও ছিলো না। আর আমাদের আয়ের পথ বন্ধ ছিলো। এবার ঈদ উৎসবকে ঘিরে শুধু যে নামী দামি টেইলার্স হাউজগুলোই ব্যস্ত সময় পার করছে তা নয়। ঈদকে সামনে রেখে পাড়া মহল্লার ছোট ছোট বড় দর্জি দোকানগুলোতে এখন চলছে রাত দিনের ব্যস্ততা।









