- লোকসান এড়াতে দাম বাড়াতে চায় দেশীয় কোম্পানিগুলো
- বড় ব্যবসায়ীরা অনড়, খুচরা ব্যবসায়ীরা নিরুপায়
সয়াবিন তেল নিয়ে একচেটিয়া বাণিজ্যের সুযোগ নেই
- বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের ভোজ্যতেলের বাজার ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে। প্রতিলিটার সয়াবিন তেল ১৬৮ থেকে ১৭২ টাকায় কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা। সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) পণ্য বিক্রির ট্রাকের সামনের লাইনও বড় হচ্ছে প্রতিদিন। সেখানেও ১০০ টাকার সয়াবিন তেলের দাম হয়েছে ১১০ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সয়াবিন তেলের দাম সরকার যতই ঠিক করে দিক, তা কার্যকর করা যায় না ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফার প্রবণতার কারণে। ব্যবসায়ীরা এখনও নিজেদের মতো করে দর নির্ধারণ করছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদেরও কিছু করার থাকে না।
একাধিক সূত্র জানায়, ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার পেছনে রয়েছে মূলত পাঁচটি পরিশোধনকারী কারখানার সিন্ডিকেট। তারাই ঠিক করে দেয় বাজারে সয়াবিন তেলের দাম। আবার দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভোজ্যতেল আমদানিতে সবগুলো প্রতিষ্ঠান সক্রিয় নেই। এতে প্রতিযোগিতাও কমেছে। অবশ্য সম্প্রতি নূরজাহান গ্রুপ, রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ও মোস্তফা গ্রুপ ভোজ্যতেল আমদানি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করে সিটি গ্রুপ। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে টিকে গ্রুপ। তৃতীয় অবস্থানে মেঘনা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ ও বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, দামের কারসাজি ধরতে কয়েকবার রিফাইনারি কারখানার প্রধান কার্যালয়গুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান চালানো হয় সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও টিকে গ্রুপে। এ ছাড়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিম মেঘনা ও সিটি গ্রুপের মিলও পরিদর্শন করেছে।
জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বললেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজতেলের দর যে হারে বেড়েছে, সেই হারে দেশে এখনও বাড়ানো হয়নি। কোম্পানিগুলো অনেকটা লোকসানেই বিক্রি করছে। কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে দাম কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন মানছে না। কতদিন এভাবে চালানো যাবে তা নিয়ে কোম্পানিগুলোই সন্দিহান বলে জানালেন বিশ্বজিৎ সাহা।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, সয়াবিন তেল আমদানিনির্ভর বলে আন্তর্জাতিক বাজারে কঠোরভাবে নজর রাখতে হচ্ছে। সেখানে দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হবে। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সয়াবিন তেল নিয়ে একচেটিয়া বাণিজ্যের সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদা ১৫ লাখ টন। এর মধ্যে সয়াবিনের চাহিদা ১১ লাখ টন, পামঅয়েলের ৩ লাখ টন এবং সরিষাতেলের ১ লাখ টন।
আনন্দবাজার/শহক









