- ইইউ সনদপ্রাপ্ত ১০৫ কারাখানার ৫৭টিই বন্ধ
- সীমান্তে ভেনামি চিংড়ি চাষে সফল ভারত
- দেশে ভেনামির অনুমোদন চেয়ে আবেদন
উপকূলীয় এলাকায় এক সময়ের বিপুল সম্ভাবনাময় চিংড়ি চাষে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা। বিদেশে বড় বাজার থাকায় চিংড়ি রফতানির পরিমাণও ছিল বিশাল। তবে গেল দশ বছর ধরে উপকূলে চিড়িং চাষে ভাটা পড়েছে। বেশি মুনাফার লোভে চিংড়ির শরীরের লোহা, শ্যাওলা, জেল ঢুকিয়ে রফতানি করায় বিশ্ববাজারে সুনাম হারিয়ে ফেলে খাতটি। এ কারণে বিপুল সম্ভাবনায় খাতটি ধীরে ধীরে অলাভজনক হয়ে পড়ে।
তবে শুধু আত্মঘাতী প্রবণতাই নয়, ব্যবসায়ীরা বলছেন, গেল এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে চিংড়ি খাতে। উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি চাষের উপযুক্ত পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে উৎপাদন। চিংড়ি ঘেরগুলোরও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে এখন ভেনামি চিংড়ির উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে ভেনামি চিংড়ি চাষে ভালো সফলতা পেয়েছে ভারত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও সম্ভাবনা রয়েছে এ প্রজাতির চিংড়ি চাষে। তবে হতাশাজনক ঘটনা হচ্ছে, এখনও বাণিজ্যিক অনুমোদন মেলেনি ভেনামি চিংড়ি চাষে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গেল দেড় থেকে দুই দশক ধরে উপকূলীয় চিংড়ি চাষ খাতে বড় বিনিয়োগকারীদের অনেকেই এখন দুর্দশায় জীবন কাটাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সনদপ্রাপ্ত ১০৫টি কারখানার মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৫৭টি প্রতিষ্ঠান। যেসব কারখানার উদ্যোক্তাদের অনেকেই কারাখানা বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার তাদের কারখানাগুলোকে হিমাগার হিসেবে ব্যবহার করছেন। অনেকে আবার ঋণখেলাপি হয়ে ব্যাংকের মামলা মোকাবেলা করছেন।
সূত্রমতে, কাঁচামালের অভাবে প্রায় অর্ধযুগ ধরে বন্ধ রয়েছে সাতক্ষীরা ফুডস লিমিটেড নামের একটি প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। এখন আলু, আদা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের ব্যবসায় নেমেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খলিলুল্লাহ। তিনি বলেন, চিংড়ি ব্যবসা বন্ধের পর প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে কোনো প্রতিষ্ঠান সাদা মাছ প্রক্রিয়াকরণ করছে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান হিমাগারে আলু, আদা, পেঁয়াজ সংরক্ষণ করছে। অনেকে আবার সবজি প্রক্রিয়াকরণও করছে।
এক সময়ের সফল ব্যবসায়ী এম খলিলুল্লাহ বলেন, গেল ১০ বছরে উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ির উৎপাদন অনেক কমে গেছে। সেই জায়গা দখল করেছে ভেনামি চিংড়ি চাষ। সীমান্ত এলাকায় ভেনামি চাষে ভারত সফলতা পেলেও বাংলাদেশে এর বাণিজ্যিক অনুমোদন এখনও মেলেনি। সরকারের কাছে আমরা এ ব্যাপারে আবেদন করে রেখেছি।
দেশের উপকূলীয় চিংড়ির প্রধান রফতানিবাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যা চিংড়ি চাষ ও রফতানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তখন মূলত রফতানি হওয়া চিংড়ির ওজন বাড়াতে এর ভেতর লোহাজাতীয় পণ্য ঢুকানো ছাড়াও এক ধরণের জেল ও শ্যাওলা ব্যবহার করা হতো। রফতানির আগে সরকারের ল্যাবরেটরিগুলোতে পরীক্ষা করা হলেও জালিয়াতি ধরা হতো না। এ কারণে রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইইউ।
পরে রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য কারখানাগুলোকে ইইউ নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকার প্রতিটি কারখানাকে ৪০ লাখ টাকা করে স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়। এখন পর্যন্ত দেশের ১০৫টি কারখানার ইইউ সনদ রয়েছে। যেগুলোকে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে সরকার। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইইউ সনদ পাওয়ার পর বাংলাদেশের রফতানি আয় কয়েকগুণ বাড়ানোর সুযোগ ছিল। তবে চিংড়ি সংকটের কারণে সে সম্ভাবনা আর কাজে লাগেনি। তবে এখন বিশ্ববাজারে হিমায়িত চিংড়ির দাম বেড়েছে। বাগদা চিংড়ির দাম বেড়েছে ৩০ ভাগের বেশি।
আনন্দবাজার/শহক









