শস্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুর ধানের জেলা হিসাবে পরিচিত। গতানুগতিক ধান ও শাক-সবজির চাষের পাশাপাশি এখন বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের কাঁচা মরিচ আবাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
বর্তমানে কাঁচা মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। কৃষকরা এ মরিচ বাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করছেন।
গতকাল বুধবার উপজেলার চক হরিদাসপুর গ্রামে দেখা যায়, ক্ষেতে ছোট ছোট গাছের সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে লাল-সবুজ মরিচ। বাজার জাত করার মতো হয়েছে প্রতিটি গাছের মরিচ। এক মণ মরিচ তুলতে পারলে শ্রমিকরা পায় ১২০ টাকা। তাই গ্রামের ৮ থেকে ১০ জন নারী একত্রে হয়ে ক্ষেতের মরিচ তোলার কাজ করছে।
উপজেলার চক হরিদাসপুর গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন ও বিরামপুর পৌর শহরের ভবানীপুর (মুন্সি পাড়া) গ্রামের কৃষক আফজল হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে কৃষকের খরচ হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। লাগানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে গাছে মরচি ধরতে শুরু করে। এর ১৫ দিন পরপর ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে হয়। এক বিঘা জমিতে প্রতিবার প্রায় ১৬ থেকে ১৮ মণ মরিচ পেয়ে থাকেন চাষিরা।
এখন কাঁচা মরিচ চাষ করে যেমন লাভবান হচ্ছেন কৃষক। তেমনি স্থানীয় নারীদেরও একটা কর্মসংস্থান হচ্ছে।
নারী শ্রমিক মরিয়ম বেগম বলেন, আমরা গ্রামের বিভিন্ন মরিচ ক্ষেতে মরিচ তোলার কাজ করি। প্রতিটি ক্ষেতে ১৫ দিন পর পর কাজ করি। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়। সংসারে সব কাজের পাশাপাশি আমরা এই কাজটিও আনন্দের সঙ্গে করে থাকি।
উপজেলা কৃষি অফিসার নিকছন চন্দ্র পাল জানান, গতানুগতিক চাষাবাদের পাশাপাশি চাষিরা এখন মসলা ও শাক সবজি আবাদের প্রতি ঝুঁকছেন। এতে একেক জনের সাফল্য দেখে অন্যরাও নতুন নতুন মসলা ও শাক-সবজি চাষ করছেন। তিনি আরো জানান, বিরামপুর উপজেলায় এবার ১০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে।









