- যুদ্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন
ভারতের দিকে ঝুঁকছে আমদানিকারক মিশর
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এরই মধ্যে বিশ্ব জ্বালানির বাজার প্রচণ্ড উত্তপ্ত করেছে। হামলার প্রথম থেকেই গোটা বিশ্বের ছিল খাদ্য সংকটের চিন্তা। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম রপ্তানিকারকক দেশ রাশিয়া। তারপরেই রয়েছে ইউক্রেন। তবে যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইউক্রেন থেকে এখন আর গম রফতানি হচ্ছে না। এদিকে রাশিয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অনেক দেশ।
এ অবস্থায় ফাঁকা মাঠে এ বাজার দখল করতে চাচ্ছে ভারত। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গম উৎপাদক হলেও রপ্তানিতে তাদের অংশ এক শতাংশেরও কম। দেশটির উৎপাদিত গমের সিংহভাগই ব্যবহৃত হয় অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে। বাকি অংশ বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে রপ্তানি হয়।
রাশিয়া-ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম গম ক্রেতা মিশর। কিন্তু দুই প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধের কারণে দেশটি এবার ভারত থেকে গম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযুষ গয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বের মোট গম রপ্তানির ২৯ শতাংশই সরবরাহ করে রাশিয়া-ইউক্রেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে গম সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
২০২০ সালে রাশিয়া থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের ও ইউক্রেন থেকে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের গম আমদানি করেছিল মিশর। উত্তরপূর্ব আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সংযোগকারী দেশটি এখন ভারত থেকে ১০ লাখ টন গম আমদানি করতে চায়, এর মধ্যে চলতি এপ্রিল মাসেই নেবে ২ লাখ ৪০ হাজার টন।
পীযুষ গয়াল এক টুইটে বলেন, ভারতের কৃষকরা এখন বিশ্বকে খাওয়াচ্ছেন। ভারতকে গম সরবরাহকারী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে মিশর। বিশ্ব স্থিতিশীল খাদ্য সরবরাহে নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎসের সন্ধানে নামলে এগিয়ে যায় মোদী সরকার। কৃষকরা আমাদের শস্যভাণ্ডার উপচে পড়া নিশ্চিত করেছেন এবং আমরা সারা বিশ্বকে তা পরিবেশন করতে প্রস্তুত।
পরিমাণ ও মূল্য উভয় দিক থেকে ভারতীয় গমের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাংলাদেশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের মোট গম রপ্তানির ৫৪ শতাংশই এসেছে বাংলাদেশে। ওই বছর ভারতীয় গমের শীর্ষ ১০ ক্রেতা ছিল বাংলাদেশ, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ওমান ও মালয়েশিয়া।
তবে বিশ্বব্যাপী ভারতের গম রপ্তানি ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৬ সালে বৈশ্বিক গম রপ্তানিতে তাদের অংশ ছিল মাত্র ০.১৪ শতাংশ, ২০২০ সালে তা বেড়ে ০.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। আবার ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারতের গম রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারের, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪ কোটি ৯৬ ডলারে।
এছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটি গম রপ্তানি করেছে ১৭৪ কোটি ডলারের, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তাদের রপ্তানি ছিল মাত্র ৩৪ কোটি ১৭ লাখ ডলারের। ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন গম উৎপাদিত হয়। দেশটির প্রধান গম উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার ও গুজরাট।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বিশ্বে যেসব দেশ গম আমদানি করে থাকে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বছরে বাংলাদেশে যে পরিমাণ খাদ্যপণ্যের প্রয়োজন হয় তার মধ্যে রয়েছে ৫৮ লাখ টন গম। এর মধ্যে দেশে গম উৎপাদন হয় ১২ লাখ টনের কিছু বেশি। ফলে মোট চাহিদার চার-পঞ্চমাংশ পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে। চলতি অর্থবছরের ১ মার্চ পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সাড়ে ৯ লাখ টন গম আমদানি করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী চলতি বছরের জন্য কমপক্ষে আরও ৩০ লাখ টন গমের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মর্কতারা।









