রমজানে মুনাফায় তৎপর সিন্ডিকেট
- সয়াবিন-পাম তেলের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ৪শ’ টাকা
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে গত একমাসে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ৪০০ টাকার বেশি। এছাড়া সরকার গত রবিবার বোতলজাত সয়াবিনের দাম লিটার প্রতি আরো ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা নির্ধারণ করে। তেলের দাম বৃদ্ধির তেলেসমাতিতে নাকাল হয়ে পড়েছেন ভোক্তারা।
যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের বাজার চড়া। প্রতিদিনই বুকিং দর অল্প অল্প করে বাড়ছে। দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে সয়াবিন ও পাম উভয় তেলের দাম স্থির থাকছে না। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজার কয়েক মাস আগে কমতির দিকে ছিল। তখন কিন্তু দাম কমেনি। উল্টো আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। রমজান সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ি তেলের মূল্য বাড়িয়ে অতিরিক্তি টাকা কামানোর ধান্ধায় লিপ্ত রয়েছে।
চট্টগ্রামের বনেদি পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাস আগে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৬০ টাকায়। বর্তমানে ৪২০ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে এখন ৫ হাজার ৪৬০ টাকায়। অন্যদিকে গত এক মাস আগে প্রতিমণ সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ৫ হাজার ৪৩০ টাকায়, বর্তমানে মণপ্রতি ৩৩০ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৬০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু রয়েছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আবার আইনগতভাবেও স্বীকৃত নয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) শ্লিপ। তেল কিংবা অন্যকোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে।
দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই ওই শ্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেকবেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়। বলা যায়, ডিও কারসাজির কারণে মাঝে মাঝে পণ্যের দাম আকাশচুম্বি হয়ে উঠে। এসব কারসাজির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়িরা রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের দাম আরো বাড়ানোর পায়তারা করছে।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী ফেরদৌস ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজার দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার ফলে বাজারে প্রভাব পড়ছে। আমাদের দেশে পাম তেল আসে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। মালয়েশিয়াতে বুকিং দর বাড়ছে। আসলে করোনা মহামারির কারণে পাম তেলের উৎপাদন ভালো হয়নি। এছাড়া সয়াবিনের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। আমাদের দেশে সয়াবিন আমদানি হয় ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে।









