টানা দুই দিনের বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী নদীর ৬টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ফাটল দেখা দেওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আরও বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, পুকুর প্লাবিত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন ১৩টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১.৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন।
ফুলগাজী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, গতকাল সন্ধ্যার দিকে মুহুরী নদীর ফুলগাজী সদর অংশের উত্তর দৌলতপুরের ৩টি স্থানে ও কিসমত ঘনিয়া মোড়া গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এতে করে ইউনিয়নের ঘনিয়া মোড়া, কিসমত ঘনিয়া মোড়া, পুর্ব ঘনিয়া মোড়া, উত্তর দৌলতপুর, বৈরাগপুর, সাহাপাড়া, উত্তর বরইয়াসহ অন্তত সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়াও ফুলগাজী বাজারের পশ্চিম অংশে শ্রীপুর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ফুলগাজী উপজেলা সদরের মূল সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে আনুমানিক ৫শ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
পরশুরামের শালধর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আবুল কাশেম মোল্লা জানান, বন্যায় পানিবন্দি হলে অনেকে চিড়া-মুড়ি নিয়ে আসে। তবে কেউ টেকসই বাঁধ নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধানের কথা বলে না।
আনন্দবাজার/এম.কে








