সিলেটে আকস্মিক বন্যা জনপদকে বিপর্যস্ত করে ধীরে ধীরে নামছে পানি। বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হলেও দেখা দিচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা। ভোগাচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে। পানি কমতে থাকায় ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বন্যায় সিলেটে ধান ও মাছের পাশাপাশি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক- রাস্তাঘাট।
জানা গেছে, বন্যায় সিলেটে সাড়ে ৫শ কিলোমিটার সড়ক ডুবে যায়। এর মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় আড়াই শ ও জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ শ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এসব সড়কের বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভেঙে গেছে কয়েকটি ব্রিজ ও কালভার্ট। বন্যার পানি নামতে শুরু করায় এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের চিত্র ফুটে উঠছে। পানির তোড়ে স্থানে স্থানে ভেঙে গেছে বিভিন্ন সড়ক। সড়কের মাঝখানেই তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। পানি উঠে যাওয়া বেশির ভাগ সড়কেরই এমন অবস্থা দেখা গেছে।
তবে অনেক সড়ক এখনও পানির নিচে ডুবে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করতে পারছে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এবং সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
এলজিইডি সূত্র জানায়, তাদের অধীনস্থ সিলেট জেলার ১০টি উপজেলার ১১১টি সড়কের ২৬৭ কিলোমিটার পানিতে তলিয়ে যায়। এসব সড়ক অনেক জায়গায়ই ভেঙে গেছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে- বন্যায় এলজিইডি’র অধীনস্থ সড়কগুলোতে ১৭২ কোটি ২৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাটে ২৭টি সড়কে ৮২ দশমিক ১৩ কিলোমিটার, কানাইঘাটে ১৫টি সড়কে ৩০ দশমিক ৫ কিলোমিটার, জৈন্তাপুর উপজেলার ১১টি সড়কে ৩২ কিলোমিটার, সদরের ১২টি সড়কে ২১ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার, গোলাপগঞ্জে ১০টি সড়কে ২২ কিলোমিটার, কোম্পানীগঞ্জে চারটি সড়কে ৩৪ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার, দক্ষিণ সুরমার চারটি সড়কে সাড়ে তিন কিলোমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে একটি সড়কে দেড় কিলোমিটার, ওসমানীনগর উপজেলায় একটি সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার ও বালাগঞ্জে একটি সড়কে দেড় কিলোমিটার।
এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীর বলেন, অনেক সড়ক এখনও পানি থাকায় এখনই ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব মিলবে না। আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া হিসাবমতে- বন্যায় আমাদের ১১১টি রাস্তার ২৬৭ কিলোমিটার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট সদর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২টি কালভার্ট ভেঙে গেছে।
এদিকে সওজ কার্যালয় সূত্র জানায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের ১ দশমিক ২০, কানাইঘাটের দরবস্ত-কানাইঘাট-শাহবাগ সড়কের ১৪ দশমিক ৮০ এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রশিদপুর-লামাকাজি সড়ক, কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক সড়ক, শেওলা-সুতারকান্দি সড়ক এবং বিমানবন্দর-বাদাঘাট-কুমারগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কের বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সওজের সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনও পানি পুরোপুরি না নামায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, বন্যার পানির নিচে ছিলো সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার ১৪টি ওয়ার্ডের ২৫০ কিলোমিটার সড়ক। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী বিধায়ক রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, মহানগরী এলাকার সড়কসহ বন্যার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কাজ চলছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাসাবাড়ির তালিকা প্রণয়ন এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে রোববার একটি উচ্চতর সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সিসিক।









