ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান-
- ২৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১১০ মামলা
- যোগাযোগ করেছে ১১ প্রতিষ্ঠান
গ্রাহকের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ অধিকাংশ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। আটক করা হয়েছে এর সঙ্গে জড়িতদের। ব্যবস্থা নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠন করা হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এবার দেয়া হয়েছে নতুন নির্দেশনা। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ মার্চের মধ্যে যোগাযোগ না করলে তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে। এ তথ্য জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, যোগাযোগ না করলে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকাগুলো যে অ্যাকাউন্ট থেকে এসেছে সেখানেই রিফান্ড করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এসএসএল কমার্স পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থলেডটকম ও বুমবুমডটকমের গ্রাহকদের আটকে থাকা টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় ইক্যাব, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, সিআইডি, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশ, এসবির প্রতিনিধিসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।
সফিকুজ্জামান বলেন, আমরা এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছি। এরমধ্যে কিউকম, দালাল প্লাস ও আলেশা মার্টের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আজ দুটি প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সেগুলো হলো- থলেডটকম ও বুমবুমডটকম। এছাড়া আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগির আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের টাকা পর্যায়ক্রমে ফেরত দিতে পারবো।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, পেমেন্ট গেটওয়েতে যে টাকা আটকে আছে এবং যা ফেরত দেওয়া হয়নি, সেগুলো গ্রাহকদেরই টাকা। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি কাজ করছে। ই-কমার্স বর্তমানে যে অবস্থায় চলছে, তাদের যে টাকা আটকে আছে, যেগুলোর ডেলিভারি হয়নি, সে টাকাগুলো আমরা ফেরত দিতে পারি। সেখানে এসএসএল, নগদ, বিকাশ ও ফস্টার আমাদের সঙ্গে একটি টিম হিসেবে কাজ করছে।
সফিকুজ্জামান আরো বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এর বাইরেও অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আছে যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এজন্য আমরা একটি মেসেজ দিতে চাই, ২৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে মামলা আছে- ৩১ মার্চের পরে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলবো। যেগুলোর মামলা হয়েছে সেগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে চায় তাদের সব ধরনের সহায়তা দেবো। ই-ক্যাব হলো ডিজিটাল কমার্স খাতের প্লাটফর্ম। ই-কমার্সের অভিভাবক ইক্যাব। এজন্য ইক্যাব থেকে একটি লিখিত নোটিশ করতে বলা হয়েছে যে ৩১ মার্চের মধ্যে যারা যোগাযোগ করবে না, তাদের সদস্যপদ বাতিল করতে হবে।
সফিকুজ্জামান জানান, আমাদের ই-কমার্সের ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমপক্ষ ১১০টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে ১০ থেকে ১১টি প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারমধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠানের টাকা গ্রাহকদের দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে কিউকমের ২৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, আলেশা মার্টের ৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, থলেডটকমের ১০ জন গ্রাহককে রিফান্ড করা হচ্ছে ৫ লাখ ৫ হাজার ২৮০ টাকা। এছাড়াও বুমবুমডটকমের ১০ জন গ্রাহককে রিফান্ড করা হচ্ছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ২১৮ টাকা।
‘আগামী সপ্তাহে আরও দুই একটা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের টাকা দিতে পারবো। আরও তিন চারজন রয়েছেন প্রসেসের মধ্যে। বাকি ১২ থেকে ১৩টি প্রতিষ্ঠান আছে তারা কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এজন্য সে তালিকা সিআইডি ও এসবি কাছে পাঠাবো। কারণ তাদের অনেকেই গাঢাকা দিয়েছেন।’









