- বৈরি আবহাওয়া
- শঙ্কায় বোরো চাষিরা
- কুয়াশা থেকে রক্ষায় পানিতে ডুবানো
- পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন চাষিরা
রোপা আমন ধানের কাটা-মাড়াই শেষ হতে না হতেই রংপুর অঞ্চলে শুরু হয়েছে বোরো আবাদের প্রস্তুতি। ৪০ থেকে ৪৫ দিন বয়সের চারা রোপনের লক্ষ্য নিয়ে চলছে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কাজ। কিন্তু চারা রোপনের এ সময়টাতে ঘন কুয়াশাসহ বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে এ অঞ্চলে। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে উঠতি আলুসহ বিশেষ করে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তবে ঘন কুয়াশার কারণে যাতে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য কৃষকরা রাতের বেলায় পানিতে ডুবিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন কৌশলের পাশাপাশি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন বোরো ধানের বীজতলা।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে জমি তৈরিসহ বোরো ধানের বীজতলা তৈরির ধুম পড়েছে। আমন ধান কর্তনের পর ওই জমিতে বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। সে জন্য কৃষকরা বীজতলা তৈরি করছেন। কিন্তু কুয়াশাসহ আবহাওয়ার বৈরি আচরণে তাদের শঙ্কা কাটছে না। বিস্তীর্ণ মাঠে রয়েছে বোরোর বীজতলা। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় বীজতলায় ধানের চারা হলুদ বর্ণ ধারন করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী রাতের বেলা কেউবা বীজতলা পানিতে ডুবিয়ে রাখছেন, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন কেউ কেউ। আবার কেউবা ছত্রাকনাশক স্প্রে করে চারা রক্ষার চেষ্টা করছেন
পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান জানান, কয়েকদিন আগে তিনি ৬০ কেজি ধানের বীজতলা করেছেন। এখন ঘন কুয়াশার কারণে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তিনি। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে তিনি সকাল-সন্ধ্যায় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন।
তিনি বলেন, ‘বীজতলা নষ্ট হইলে চারা কিনি (ক্রয় করে) জমিতে লাগানো সম্ভব হবার নয়। তাছাড়া নতুন করি আর বীজতলায় চারা তৈরি করারও সময় মিলবে না।’
গঙ্গাচড়া উপজেলার ঠাকুড়াদহ এলাকার কৃষক রমজান আলী জানান, বীজতলা রক্ষায় তিনি রাতের বেলায় পানিতে ডুবিয়ে রাখছেন এবং সকালে পানি বের করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘সব কাজ বাদ দিয়ে আগে চারা রক্ষার চেষ্টা করছি। চারার অভাবে বোরো আবাদ করতে না পারলে না খেয়ে মরতে হবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ২৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধানের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরোদমে চলছে বীজতলায় চারা তৈরির কাজ। এ সব বীজতলার বয়স এখন ২৫ থেকে ৩০ দিন। এক সপ্তাহ ধরে তীব্র ঠান্ডার কারণে অনেকস্থানের বীজতলার চারা হলুদ বর্ণ হয়ে শুকিয়ে যেতে বসেছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার হাত থেকে বীজতলা রক্ষায় আগে থেকেই কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভালো ফলনের লক্ষ্যে ভালোমানের চারা তৈরিতে সাধারণ বীজতলার পাশাপাশি আদর্শ বীজতলা ও শুকনো বা পলিথিনে ঢাকা বীজতলা করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এ অঞ্চলে কৃষির জন্য বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। তাই আগে থেকে বিশেষ করে কৃষকদের বীজতলা রক্ষায় বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, আক্রান্ত বীজতলা পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনে চারার মধ্যে জমানো শিশির কঞ্চি অথবা শক্ত কিছু দিয়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আগে থেকে সতর্কাবস্থা অবলম্বন করতে পারলে বোরো বীজতলার তেমন ক্ষতি হবে না।
তারা আরো জানান, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম থাকলে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। এ পরিস্থিতি বীজতলার জন্য ক্ষতিকর। কাজেই শৈত্যপ্রবাহ থেকে বীজতলাকে রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, পানিতে ডুবিয়ে রাখা ও সালফারযুক্ত ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি বীজতলায় জিপসাম ও ইউরিয়া দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।









