অ্যান্টিবায়োটিকের বিপুল ব্যবহার প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) ‘ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ অন অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স (জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠা) চিহ্নিত ও মোকাবিলায় সমন্বিত ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং পশুস্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্ব সংস্থার (ওআইই) উদ্যোগে ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ অন অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিসট্যান্সের যাত্রা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অন্যথায় বিশ্বকে করোনাভাইরাস মহামারির চেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।
‘অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স’ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে সবার জন্য নতুন প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিকের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত গবেষণা এবং বিনিয়োগেরও আহ্বানও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের (অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স) আওতার বাইরে চলে যাচ্ছি এবং যার ফলে শিগগিরই আরেকটি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে, যেটি হবে বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারির চেয়েও মারাত্মক।
তিনি বলেন, সন্দেহ নেই যে, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স মানুষ এবং প্রাণী উভয়ের জন্য একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপজ্জনক খাদ্য উৎপাদন আমাদের বিপজ্জনক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যান দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কনটেইনমেন্ট ২০১৭-২২’–এর জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ অন অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিসট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় অংশীদার ডব্লিউএইচও, এফএও এবং ওআইই–কে এ সমন্বিত গ্রুপটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের গুরুতর সমস্যা সমাধানের জন্য সম্মিলিত বৈশ্বিক উদ্যোগের জন্যও ধন্যবাদ জানান।
গ্রুপের সহসভাপতি বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি, ডব্লিউএইচও, এফএও ও ওআইইর মহাপরিচালকেরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









