মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ সময় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক পদে ২০২৩ সালের জন্য এবং মানবাধিকার কাউন্সিলে ২০২৩-২৫ সালের জন্য বাংলাদেশি প্রার্থীর পক্ষে শ্রীলঙ্কার সমর্থন কামনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার জোরালো সমর্থন আছে বলে মাহিন্দা রাজাপাকসে উল্লেখ করেন।
ইতো পূর্বে শ্রীলঙ্কার সাথে স্বাক্ষরিত কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য ড. মোমেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে বলে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, উপকূলীয় নৌ-পথ চালু, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা চুক্তি, বাংলাদেশি ওষুধ সামগ্রী শ্রীলঙ্কায় রফতানিসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। এ সময় বাংলাদেশে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ন্যায় শ্রীলঙ্কার স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের অনুরোধ জানানো হয়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে করোনার মধ্যেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় বাংলাদেশ সফর করায় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলাদেশ সফর করার ঘটনা আমাদেরকে গর্বিত করেছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী জানান, মুসলিম মহিলাদের জন্য সেদেশে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয়নি। বোরকা নিষিদ্ধের জন্য কিছু মহলের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হলেও শ্রীলঙ্কার সরকার তা এখনো গ্রহণ করেনি।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।
আনন্দবাজার/শহক







