পাবনার রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরমাণু চুল্লিপাত্র বসানোর কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে বসানো হলো এ চুল্লিপাত্র। এর মাধ্যমে দেশে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আজ থেকে পারমানবিক শক্তির একটি অংশ হলো বাংলাদেশ। অস্ত্র উৎপাদনে নয় ,শান্তির কাজে ব্যবহার করা হবে পারমানবিক শক্তি।'
এসময় রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ বলেন, 'রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করাটাই রোসাটমের অগ্রাধিকারে রয়েছে।'
এর আগে, বিজ্ঞানমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, এই ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর ফলে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যাবে এবং এই ইউনিটের রিঅ্যাক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দ্বিতীয় ইউনিট থেকে পাওয়া যাবে ২০২৪ সালে। রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন। এটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশই আসছে রাশিয়া সরকারের ঋণ হিসেবে।
এর আগে, রাশিয়া থেকে দীর্ঘ সাগর পথ পাড়ি দিয়ে আসা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারি যন্ত্রাংশ গ্রহণ করা হয় রুপপুরে পদ্মানদীর জেটিতেই। ঠিকাদারির প্রতিষ্ঠান রোসাটমের তত্ত্বাবধানে ভারি যন্ত্রাংশের প্রায় সবই তৈরি হয়েছে রাশিয়াতে। আরো ১২ শ' মেগাওয়াট সক্ষমতার দ্বিতীয় চুল্লির জন্য দরকারি উপকরণও রাশিয়া থেকে রুপপুরে চলে এসেছে। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে করোনার মহামারিতেও কাজ থেমে যায়নি একদিনের জন্যও।
রাশিয়ান নকশা, কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় দুটি রিঅ্যাক্টিরই হবে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির যা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সর্বাধুনিক ও সর্বশেষ সংস্করণ। এর থাকবে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরমাণু প্রযুক্তি পরিচালনার দক্ষতা তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য মতে, বর্তমানে এখানে প্রায় ২১ হাজার মানুষ কাজ করছে। এবছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ২২ হাজার। এরপর যখন কাজের পরিধি বাড়বে তখন প্রায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ এখানে কাজে যুক্ত হবেন।
আনন্দবাজার/শহক









