হবিগঞ্জের ২৪ বাগান কর্মমুখর
দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০০ টাকা করার দাবীতে দীর্ঘ ১৯ দিন আন্দোলনের পর কাজে ফিরেছেন হবিগঞ্জের ২৪টি চা-বাগানের শ্রমিকরা। গতকাল রাববার সকালে তারা কাজে যোগ দিয়েছেন। দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করায় তারা খুশিতে মাতোয়ারা। বাগানের প্রত্যেক শ্রমিকের মুখে ফুটেছে যেন আনন্দের হাসি। এর আগে শনিবার বিকেলে গণভবনে চা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাছাড়া তাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হবে এবং সব মিলিয়ে দৈনিক মজুরি হবে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে, মজুরি বৃদ্ধি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শ্রমিকরা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন আন্দোলন চলাকালে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাস্তা ও মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তারা।
জানা যায়, মজুরিবৃদ্ধির দাবিত গত ৯ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত হবিগঞ্জের ২৪টি চা বাগানসহ সারাদেশের চা বাগানগুলোতে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। ১৩ আগস্ট থেকে তারা পালন করেন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। এতে চা শ্রমিকদের টানা ধর্মঘটে সারা দেশের বাগান থেকে চাপাতা উত্তোলন, কারখানায় প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদন বন্ধ থাকে। এতে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের চা শিল্প। তবে এর মধ্যে শ্রম অধিদপ্তর ও মালিক পক্ষ ১২০ টাকা মজুরির স্থলে ২৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১৪৫ টাকা দিতে সম্মতি জানালে চা শ্রমিকরা তা প্রত্যাখান করে এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া ঘরে না ফেরার অঙ্গিকারাবব্দ হলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান একাধিকবার চা শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েও কোন কাজ হয়নি। অবশেষে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায় চা শ্রমিকরা আস্থা ফিরে পায়। যে কারণে গতকাল সকাল থেকেই তারা কাজে যোগদান করে।
চানপুর চা বাগানের ফ্যাক্টরী সর্দার ভাস্কর ভৌমিক জানান, গত ১৯ দিন ধরে ন্যায্য মুজরি বৃদ্ধির দাবীতে তারা আন্দোলন করেছেন। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তাদের মজুরি বৃদ্ধি করে দেয়ায় তারা খুশি ও আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের মা। আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল একমাত্র তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকেই আমরা কাজে ফেরার সম্মতি জ্ঞাপন করি’।
সন্ধ্যা রানী জানান, তাদের দুঃখ কষ্ট একমাত্র শেখ হাসিনাই বুঝেন। যে কারনে তারা শেখ হাসিনার ঘোষণা ছাড়া আন্দোলন ছাড়বেন না বলে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘মা শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন তাই আমরা কাজে ফিরেছি। বিশ্বনাথ নায়েক জানান, মজুরি বৃদ্ধি করা হোক, এটা তাদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল। অবশেষে তাদের দাবী পূরণ হয়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পালন বলেন, ‘আমাদের মা জননী আমাদের দাবী পূরণ করেছেন। এতে আমরা খুব খুশি। গতকাল রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকার পরও লস্করপুর ভ্যালীর সকল বাগানেই কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। আন্দোলন চলাকালে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করার জন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থী’। তিনি বলেন, ‘পেটের দায়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করেছেন। এতে বাগান মালিকদেরও ক্ষতি হয়েছে। তাই শ্রমিকরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে’।









