- রেডিও লিংক বসিয়ে ব্যাংকিং সেবা
- সেলফোনে এসএমএসেই ঘরে বসেই তথ্য
- উত্তরের ৩৮৩ শাখার ৩৩৩টিই কৃষকের দুয়ারে
রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে ১৯৮৭ সালে যাত্রা করে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। কৃষিনির্ভর দেশে কৃষকদের আর্থিক সেবা দেয়ার লক্ষ্যেই রাকাবের যাত্রা শুরু। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় ৩৮৩টি শাখায় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে রাকাব। এর মধ্যে ৩৩৩টি শাখা একেবারেই কৃষকের বাড়ির কাছে, প্রত্যন্ত এলাকায়। শহর এলাকায় রয়েছে ব্যাংকের বাকি ৫০টি শাখা। প্রান্তিক এলাকাগুলোতে শাখা থাকার করণে গ্রাহকদের আধুনিক সুবিধা প্রদানে পিছিয়ে পড়েছিল ব্যাংকটি। তবে, দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে।
রাকাবের প্রতিটি শাখাই এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই সমান গতিশীল রাকাব। বাড়ি থেকে বের হয়ে নগরে বাস করা একজন গ্রাহক শহরে স্থাপিত ব্যাংকে যে সুবিধা পায়, ঠিক প্রান্তিক গ্রামে মাঠ থেকে উঠে এসে এক কৃষক তার বাড়ির পাশে থাকা রাকাবের যে কোন শাখা থেকে পাচ্ছেন তেমনই সুবিধা। ব্যাংকিং লেনদেনের যাবতীয় তথ্য সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় সেলফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাচ্ছেন গ্রাহক। ফলে আস্থা বেড়েছে গ্রাহকের।
কৃষিতেই সমৃদ্ধ উত্তরের ১৬ জেলার অর্থনীতি। ধান, গম, আলু, আম, মাছ, বিভিন্ন ধরনের সবজি আরো কতো কি। প্রন্তিক কৃষকরা এসব পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে আর্থিক লেনদেন করতে গিয়ে পড়তে হতো ঝামেলা। বাড়ি থেকে বহুদুরে শহর। সেখানেই ব্যাংক। এমন একটি সময়ে কৃষকের বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া একটি ব্যাংকের নাম রাকাব। বাড়ির পাশে শাখা পেয়ে কৃষকরা কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পায়। কষ্টের সময়ে ঋণ দেয়া এক কৃষক বন্ধুর নামও রাকাব। এখন সেই রাকার আধুনিক সেবা দিচ্ছে গ্রামে থেকেও।
রাকাব সূত্রমতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাকাবে তাৎক্ষণিক অনলাইন ব্যাংকিং সেবা (সিবিএস) কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। মূলত এরপরই রাকাবের দিন বদলের শুরু। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর চালু হয় বিএসিএইচ ও বিইএফটিএন সেবা। সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল চালু হয় তাৎক্ষণিকভাবে আন্তঃব্যাংক লেনদেন (আরটিজিএস) সেবাও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অফলাইন কম্পিউটারাইজড ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০১১ সালে ডিজিটাল ব্যাংকিং জগতে পা রাখে রাকাব। এরপর ধাপে ধাপে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের যাবতীয় ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। এরই মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে রাকাবের নিজস্ব আধুনিক ও সুরক্ষিত ডাটা সেন্টার। ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে রাকাব। যদিও এক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল ইন্টারনেটের ধীরগতি। কিন্তু সে বাধাও উতরে গেছে রাকাব।
অপটিক্যাল ফাইবারের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের পাশাপাশি যেখানে নেটওয়ার্কের অসুবিধা সেখানে নিজস্ব এন্টিনা দিয়ে রেডিও লিংক বসিয়ে ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে প্রান্তিক এলাকার ১৭টি শাখায়। এসব শাখার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ শাখায়ও রেডিও লিংক বসিয়ে ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। আধুনিক সুবিধা পেয়ে বেশ খুশি সেখানকার গ্রাহকরা।
পাশের নলডুবুরি এলাকার বাবু জানান, রাকাবের শাখাটিতে আধুনিক ব্যাংকিং এর সব সুবিধাই আছে। তাদের অনেক আত্মিয়-স্বজনরা ওই শাখা থেকে লেনদেন করে থাকেন। রাকাবের একমাত্র বিদ্যুৎবিহীন কুড়িগ্রামের কাশিমপুর বাজার শাখায় বসানো হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ। বর্তমানে ব্যাংকের সব শাখায় নিরবচ্ছিন্নভাবে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছেন গ্রাহক।
রাকাবের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জামিল বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক সব ব্যাংকিং পরিষেবা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে রাকাব। একজন কৃষক যেন মাঠ থেকে উঠে এসে ব্যাংকে গিয়ে যেন সব ধরনের আধুনিক সুবিধা পায় সেই বিষয়টি মাথায় রেখে রাকাব এগিয়ে যাচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের একমাত্র আর্থিক নির্ভরতার নাম হতে চায় রাকাব। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি।
রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চালুর পর থেকে গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক আধুনিক সব ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ব্যাংকমুখী হয়েছে গ্রাহক, কমেছে শ্রেণীকৃত ঋণ। এতে কমছে লোকসান। তিনি আশাবাদী, শিগগিরই উত্তরাঞ্চলে লাভজনক ও মডেল ব্যাংক হয়ে উঠবে রাকাব।
আনন্দবাজার/শহক









