- অর্থনৈতিক পুনরুত্থানে ভোক্তা চাহিদা তুঙ্গে
- মুদ্রাস্ফীতির রাশ টানতে সুদহারে নজর
- ইংল্যান্ড-রাশিয়া বাড়িয়েছে সুদহার
- ভারতে সুদহার অপরিবর্তিত
২০২২ সালের মাঝামাঝি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে: আইএমএফ
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে করোনা মহামারিজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর ভোক্তা চাহিদা তুঙ্গে উঠে গেছে। কেনাকাটা বেড়েছে ব্যাপকহারে। এতে অর্থনীতির পুনরুত্থান ঘটছে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যস্ফীতি। এর রাশ টানতে সুদহার বাড়ানোর একমাত্র পথে চলতে দ্বিধায় পড়ে গেছে বিশ্বের সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সময় বিশ্বের কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়ানোর পথে না হাঁটলেও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড শেষমেশ সেটাই করেছে।
রাশিয়া ইতোমধ্যে সুদহার এক শতাংশ বাড়িয়েছে। আগামী বছর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভও একই পথ অনুসরণ করবে। ২০২২ সালে তারা তিনবার নীতি সুদহার বৃদ্ধি করবে। এমন পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। তবে উল্টো ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। নভেম্বরে তুরস্কে মূল্যস্ফীতির হার ২১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়ালেও দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদহার কমাতে চাপ দিয়েই যাচ্ছেন। গত মাসে টানা চতুর্থবার সুদহার কমানো হয়েছে। এই অবস্থায় অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, আগামী বছর মূল্যস্ফীতির হার ৩০ শতাংশে উঠতে পারে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে গবেষণায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেখিয়েছে, ২০২২ সালের মাঝামাঝি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে। উন্নত দেশের মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে চূড়া পেরিয়ে গেছে। ২০২২ সালের জুন মাস নাগাদ তা কমতে শুরু করবে। উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রেও প্রায় একই পূর্বাভাস করা হয়েছে। শীতের আগে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে উঠেছিল এই হার। এরপর তা ৪ শতাংশে নেমে আসবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া টানা ৯ প্রান্তিকে সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে। যাই হোক না কেন, প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া দিতে তারা সুদহার বাড়ায়নি। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের খুচরা মূল্যবৃদ্ধির হার রিজার্ভ ব্যাংকের সহনশীলতার ঊর্ধ্বসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আর পাইকারি মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে। ব্রোকারেজ সংস্থা ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজ ইন্ডিয়ার (বিওএফএ) পূর্বাভাস, ২০২২-২৩ অর্থবছরে একাধিকবার সুদহার বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জ্বালানির দাম বেড়েছে। জাহাজ–সংকটের কারণে সৃষ্টি হয়েছে পরিবহন জটিলতা। এসব কারণেই মূলত সব পণ্যের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে উন্নত বিশ্বে অভিবাসনের হার কমে যাওয়ায় ঠিকা শ্রমিকের সংকট হয়েছে। আবার স্বাস্থ্যগত কারণে অনেকেই কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন। শ্রমিকের সংকট থাকলে অবধারিতভাবে মজুরি বেড়ে যাবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মজুরি বৃদ্ধি বা শিথিল মুদ্রানীতির কারণেও মূল্যস্ফীতি বাড়ে না। গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক হিসাবে সাপ্তাহিক মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ এই সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল গড়ে ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক উভয়সংকটে পড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মূল্যস্ফীতি সাময়িক হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রাসী নীতি গ্রহণের প্রয়োজন নেই। কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদি হলে বিপদ হতে পারে। এতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও কমে যাবে। আবার মুদ্রানীতিতে রাশ টানা হলে বিনিয়োগে ভাটা পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলোতে ২০১০-এর দশকে নগদ সরবরাহ অনেক বেড়ে গেলেও মূল্যস্ফীতির হার ঐতিহাসিকভাবে কম ছিল।
মুদ্রানীতির রাশ টেনে তেমন একটা লাভ হবে না বলেই অনেকে মনে করেন। এই পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিষয়টি নির্ভর করছে সরবরাহব্যবস্থা ও রাজনীতি অর্থনীতির ওপর। কোভিডের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়েছে। এখন সেই ক্ষতি কীভাবে কাটানো হবে, সেটাই মূল ব্যাপার।
আনন্দবাজার/শহক









