ইউক্রে রাশিয়া যুদ্ধের ডামাডোলে ভোজ্যতেল নিয়ে অস্থিরতার মধ্যেই এবার লাগাম ছিঁড়েছে পেঁয়াজ। আমদানি বন্ধের অজুহাতে পেঁয়াজের এই ভরা মৌসুমেও দিন দিন দাম বেড়ে চলেছে। আগামী তিন মাসের চাহিদার সমান পেঁয়াজ মজুদ থাকলেও আমদানি বন্ধের অজুহাতে প্রতিদিন পণ্যটির দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২৫ টাকা। সপ্তাহের শুরুতেও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। গতকাল রবিবার বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকায়।
ঈদের আগে থেকেই ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নাভিশ্বাস উঠছিল সাধারণ জনগণের। এবার সেই নাভিশ্বাসে ঘি ঢাললো পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আমদানি বন্ধের কারণে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, আমদানির অজুহাত দিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। সাধারণ জনগণকে তারা জিম্মি করে রেখেছেন কিন্তু সরকার তাদের কিছুই করতে পারছে না।
দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিয়ে চলেছে বাজারের আরও বেশ কিছু ভোগ্যপণ্য। দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ, রসুন, আদা থেকে শুরু করে ছোলা, ডালসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে পনেরো থেকে পচিশ টাকা পর্যন্ত। পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আমদানির অনুমতি বন্ধের সিদ্ধান্তকে দায়ী করা হলেও বাকিগুলোর জন্য দেখানো হচ্ছে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত।
দেশে এখন পেঁয়াজ উৎপাদনের ভরা মৌসুম। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আবাদ বাড়ানোর মাধ্যমে এবার ভালো পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদনও হয়েছে। সেই পেঁয়াজ সবে বাজারে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু ভারতীয় পেঁয়াজের দাম এত কম থাকে যে দেশের কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। তাই কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে নতুন করে অনুমোদন (আইপি) না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের কৃষি বিভাগ মনে করছে, এখনই আইপি দিলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতিতে পড়বেন। আগামী বছর উৎপাদনে আগ্রহ হারাবেন কৃষক।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, দেশের কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশের বাজারে যে পেঁয়াজ আছে তাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা যাবে। তাই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধের সুযোগ নিয়ে বাজারে নৈরাজ্য তৈরি করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ মের পর নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির কোনো অনুমতিপত্র দিচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে ঈদ উপলক্ষে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ১ থেকে ৬ মে পর্যন্ত ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসেনি।
বর্তমানে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজে রীতিমতো সয়লাব চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র খাতুনগঞ্জ। তাতে দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি আড়তগুলো ভরপুর ভারতীয় পেঁয়াজে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের মধ্যেও গত কয়েকদিন ধরে বাড়ছে দাম। ঈদের আগে যে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৬-২৭ টাকা কেজি, গতকাল সেটি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। আর ঈদের আগের ২৬ টাকার দেশি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। আদার দাম কেজিতে বারো থেকে ১৫ টাকা আর রসুনের দামও কেজিতে বেশি ৪ থেকে ৬ টাকা।
আনন্দবাজার/শহক









