এক মাস ধরে চালের বাজার অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মোকামগুলোতে দাম বাড়িয়ে যাচ্ছিলেন মিল মালিকরা। কৃষকদের জন্য গত মাসের শেষের দিকে চাল রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রণোদনার ঘোষণা দেয় সরকার। যার ফলে চালের দাম আরো এক দফা বেড়ে যায়। বিশেষ অবস্থা বিবেচনায় গত সোমবার চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। তবে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হলেও চালের দাম কমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে গত দুই সপ্তাহে সব ধরনের চালের দাম বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
আড়তদাররা জানিয়েছেন, চাল রপ্তানিতে সরকারি সিদ্ধান্তের পর থেকে উত্তরবঙ্গের মোকামগুলোতে চালের দাম বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের চালের বাজারেও সরবরাহও কমে যায়। তারা আরও জানায়, এর আগে সরকার বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে ধান-চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে প্রথম দফায় চালের দাম বেড়ে যায়। সেই সময় বস্তা প্রতি চালে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে চিনিগুড়া চালের দাম বেড়েছে এক হাজার টাকা।
মঙ্গলবার(১৮ ফেব্রুয়ারি) চাক্তাইয়ের চালপট্টি ও পাহাড়তলী পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে নাজিরশাইল অর্ধ-সিদ্ধ বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৭০০ টাকায়। এছাড়া জিরাশাইল সিদ্ধ ১৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪৫০ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ১০০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৮০০ টাকা এবং স্বর্ণা সিদ্ধ বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫৫০ টাকায়। অন্যদিকে মিনিকেট আতপ চাল বস্তা প্রতি ১৫০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৯৫০ টাকা, কাটারিভোগ আতপ চাল গত দুই সপ্তাহে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৬৫০ টাকা, পাইজাম সিদ্ধ ১০০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়াও দিনাজপুরী পাইজাম ১০০ টাকা বেড়ে এখন এক হাজার ৮০০ টাকা, পুরাতন চিনিগুড়া চাল ৫০০ টাকা বেড়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং মোটা সিদ্ধ চাল ১০০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩০০ টাকায়।
চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, ধানের দাম বাড়ার ফলেই মূলত চালের দাম বেড়েছে। এছাড়া সরকার বাজারমূল্যের চেয়েও বেশি দরে কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে সাধারণত আমাদের দেশে চাল রপ্তানি কম হয়। চালের মধ্যে চিনিগুড়া চালই বেশি রপ্তানি হয়ে থাকে।
আনন্দবাজার/শাহী









