বছরে নদীভাঙনে গৃহহারা ৫৫ হাজার পরিবার: প্রতিমন্ত্রী
- নদী না থাকলে কেউ থাকবো না: ড. বিনায়ক সেন
নদীকে তার গতিতে চলতে দিতে হবে। বন্যা সবসময় খারাপ নয় অনেক ভালো কিছুও সেখানে থাকে। আমরা নদীকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক, জলবায়ু, সামাজিকসহ সবক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারি। দেশের প্রতিটি নদীকে ড্রেজিং করা হবে। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যারা ১০০ বছরের প্লান করেছে।
‘বাংলাদেশে পানি উন্নয়ন: অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এভাবেই নদীকে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি ডেল্টা প্ল্যানের বিষয়ে বলেন, ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী ১০০ বছরের জন্য পরিকল্পনার চিন্তা করেন। ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হয়। যেখানে সবার চিন্তা-ভাবনাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত পানিব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়নি ডেল্টা প্লানে এটি ঠিক নয়। সেখানে আর্থ-সামাজিক, পানিব্যবস্থা ও অন্যান্য বিষয়টিও প্রধান্য দেয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা এটিতে মতামত দিয়েছেন। তারা দেশে-বিদেশে কাজ করেছেন। ডাচ অ্যাম্বাসিকে যুক্ত করা হয়েছিল। তারা প্রজেক্ট বাতিল করতে চেয়েছিল। আমরা তাদের ড্রাফটি মূল্যায়ন করিনি। এ নিয়ে অনেক মান-অভিমানের অবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ৫৫ হাজার পরিবার নদীভাঙনে গৃহ হারান। এই সমস্যা আমাদের আহত করে। আমরা প্রকৃতিকে তার রূপে থাকতে দিয়েছি। ডেল্টায় নদীভাঙন ঠেকাতে ৮০টি প্রজেক্ট নেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ১৭টি বাস্তবায়ন হচ্ছে। আগামী দিনে ডেল্টা প্লানেই যেতে হবে বলে মনে করেন মন্ত্রী। সেই সঙ্গে প্রয়োজনে সংশোধন করা হবে বলেও জানান।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) আয়োজিত সেমিনার গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির আগারগাঁওস্থ নিজস্ব কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যমুনার প্রবাহ ১২ মাইলে আনা যেতে পারে। ফাইবার প্লানিং এর মাধ্যমে ডেল্টা প্লান বাস্তবায়ন করা হবে। এখানে এসডিজি, এমডিজি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফারাক্কা বাঁধ ভাঙার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ভারতের বিষয়, সেখানে আমরা কথা বলতে পারি না।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, এমপি। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের উন্নয়ন গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. এস. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফুড ম্যামেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর সুজিত কুমার বালা প্রমুখ।
ড. নজরুল ইসলাম বলেন, নদী নিয়ে কাজ করতে হলে কিছু সময় নিয়ে করলে হবে না। এটি নিয়ে বিশদ কাজ করতে সময় প্রয়োজন। মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। হুটহাট প্রকল্প নিলে দেশ খারাপের দিকে যাবে। ডেল্টা প্লান পুরো বাতিল নয় কিছু অংশ সংশোধন প্রয়োজন। তিনি বলেন, বোরো সফল আমাদের প্রধান ফসল নয়। আমন প্রধান মৌসুম হলেও সেটি পাল্টে গেছে। এটি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বর্ষা মৌসুমের ফসল নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।
ডিএনই প্রজেক্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রকৃতির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। নদীর পানি দূর থেকে না এনে স্থানীয় পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রতিমন্ত্রীর কথার পাল্টা যুক্তি দিয়ে ড. নজরুল বলেন, ফারাক্কার সমস্যা কেন ডেল্টা প্লানে বলা হলো না? এটি তো আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। দেশের মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। এটির ৫০ বছর বয়সেও কোনো রিভিউ করা হচ্ছে না। প্রকৃতিকে তার গতিতে চলতে দিতে হবে। তা না হলে আমাদের পস্তাতে হবে। নদীর সঙ্গে সবার ভাগ্য জড়িত। এটিকে হেলায়-ফেলায় ফেলে দেয়া হবে না।
ড. বিনায়ক সেন বলেন, আমরা বর্ষা মৌসুমে ফসলের বিষয়ে কি চিন্তা করছি। কেননা আমরা শুষ্কনো মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে খুবই প্রচার করে থাকি।









