গত দুই বছরে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেনি, এবারে আশার সঞ্চার হয়েছে: মাসুদুর রহমান রিঙ্কু, সভাপতি, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, রাজশাহী
গত দুই বছরে ৪ ঈদ। করোনা মহামারি ঠেকাতে এ ঈদগুলো মানুষকে ঘরে কাটিয়ে দিয়েছে। সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ছিল বন্ধ। ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন। অনেকে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কেউ আবার ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। এ বছর করোনার মহামারি থেমেছে। তাই নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এবারে ঈদ বাজারে রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজশাহীর মার্কেটগুলো। করোনার বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রাজশাহী নগরবাসী এবার মার্কেটমুখি। ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পোশাক নিয়ে তাদের পসরা সাজিয়েছেন। তবে গত দুই বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ঈদ যতোই কাছে আসছে ততোই রাজশাহীর মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস ও পাদুকার দোকানগুলোতে ভিড় লক্ষ্যনীয়। পাশাপাশি প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স, ক্রোকারিজ ও বেকারি পণ্যের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে। গভীর রাত পর্যন্ত বেচাবিক্রি চলছে।
ঊষা সিল্কের জেনারেল ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বলেন, মহামারীর কারণে ব্যবসা বন্ধ ছিল। এই দুই বছর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। তবে এই বছরের ঈদ নতুন করে আশা জাগিয়েছে।
জহুরুল ইসলাম আরো বলেন, করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় প্রায় সব ধরণের ব্যবসা স্বাভাবিক হচ্ছে। মানুষ কর্মে ফিরে আয় করতে শুরু করেছে। তাছাড়া সতর্কতা হিসেবে এবার ঈদের বাজার করতে অনেকেই দেশের বাইরে যেতে চাইবেন না।
নগরীর আরডিএ ও সাহেববাজারের দোকানগুলোতে স্বল্প ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড় বেশি। শাড়ি, থ্রি পিস, লেহেঙ্গা, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি থেকে শুরু করে বাচ্চাদের জামা কাপড়, জুতা সবই মেলে এখানে। এবার বাজারে এসেছে পুষ্পা, কাঁচা বাদামসহ নানা ধরনের বাহারি নামের পোশাক। ছেলেদের পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাকের বিক্রি বেশি।
তবে, পণ্যে নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ বেশ। দাম বেশির অভিযোগ উঠছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকার মিলন সম্প্রতি রাজশাহীর আরডিএ মার্কেটে বাজার করতে গিয়েছিলেন। ক্রেতা মিলন জানান, সামান্য সুতি কাপড়ের থ্রিপিসের দামও চাওয়া হচ্ছে হাজার টাকা। স্বাভাবিক সময়ে যেসব পণ্যের দাম ৫০০ টাকা। এখন ওই পণ্যেই বেড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা।
রাজশাহী বিভাগীয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ জানান, বিড়ম্বনা এড়াতে তিনি ব্যবসায়ীদের পণ্যের সাথে মূল্যের স্ট্রিকার লাগিয়ে রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
আরডিএ কর্তৃক পুনর্বাসিত সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন জানান, পুরো সাহেব বাজারে রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসায়ী। গেল দুই বছরে করোনা মহামারীর কারণে সরকারের দেয়া লকডাউনে রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেনি। এবার ঈদে ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ব্যবসায়ীদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিঙ্কু জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে এবার রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হবে। গত দুই বছর ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেনি, এবারে আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজশাহীতেও ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। দেশের নামিদামি ব্রান্ডের শোরুমগুলো এখন রাজশাহী শহরে তাদের শোরুম করতে এগিয়ে আসছে।









