সফল নারী উদ্যোক্তা মাহফুজা
ঝালকাঠির রাজাপুরে সফল নারী উদ্যোক্তা মাহফুজা আক্তার। তিনি স্থাপন করেছেন উন্নতমানের একটি দুগ্ধ খামার। দুধের ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তার প্রতিষ্ঠিত খামার। তবে উদ্যোক্তা মাহফুজার সফলতার স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় কতিপয় চাঁদাবাজ। চাহিদা মাফিক চাঁদার টাকা না পেয়ে হয়রানি করতে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ করেছেন উদ্দোক্তা মাহফুজা আক্তার। সকাল হলেই যখন ফার্মের পশুদের যত্নে থাকার কথা থাকলেও এখন মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলায় আদালতের বারান্দায় দিন কাটছে তার। বড় ধরনের অ্যাগ্রো ফার্ম করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করে এখন স্বপ্নের খামার গুটিয়ে নিবেন কিনা তাই ভাবছেন এ নারী উদ্যোক্তা।
মাহফুজা এ প্রতিনিধিকে জানান, গ্রামের মানুষের দুধ, মাংসের চাহিদা পূরণ করার পাশাপামি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে বাণিজ্যিকভাবে এ খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। তবে স্থানীয় চাঁদাবাজদের উৎপাতে এ খামার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিকল্প জ্বালানির জন্য গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানানা এ উদ্যোক্তা।
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গালুয়া গ্রামে জেনারেল অ্যাগ্রো পাক খামারে সরেজমিনে দেখা যায়, খামারে জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। কেউ আবার গাভীদের খাবার সংগ্রহ করছেন। এ খামারে পশু ও পাখিগুলোর পরিচর্যার জন্য ৮ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছে।
শ্রমিক ইউনুস মিয়া জানান, প্রতিদিন চার বার গরুগুলো গোসল করানো, দুধ সংগ্রহ, পর্যাপ্ত পানি ও খাবার খাওয়ানো কাজ করেন। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির জন্য গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিদিন খামারের ভিতর-বাহিরে দুবার জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কারসহ পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে।
কোনো প্রকার ওষুধ বা হাইব্রিড পদ্ধতিমুক্ত এ খামারের গরু লালন-পালনের প্রয়োজনীয় আধুনিক পাকা ভবন, রাত্রি যাপন শেড ও লোহার সীমানা প্রাচীর দেয়া খোলা উঠান নির্মাণ করায় গবাদি পশুগুলো দিনরাত অবাদ বিচরণ করতে পারে। পাশেই একর জমিতে ‘নেপিয়ার পারচুন’ নামে বিদেশী জাতের ঘাসের চাষ ও রংপুর থেকে ভুট্টার সাইলেস এনে মজুদ রাখা হয়েছে গাভীকে খাওয়ানোর জন্য। খাদ্যের এ ভিন্নতার কারণে বর্তমানে ১০টি গাভীতে প্রতিদিন ১শ’ থেকে ১শ’ ১০ কেজি দুধ উৎপাদন হচ্ছে।
উদ্যোক্তা মাহফুজা জানান, তার ভাইয়ের ছেলে কোয়াব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি সৈয়দ রোকনুজ্জামান খোকনের সহায়তায় তিনি গালুয়া ইউনিয়নের নিজ গ্রাম দূর্গাপুরে গড়ে তোলেন জেনারেল অ্যাগ্রো পার্ক। দেড় বছর পূর্বে ১০টি গাভী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ান, পাকিস্তানি শাহীওয়াল ও দেশি প্রজাতির ৭০টি গরু রয়েছে। গরুর পাশাপাশি ছাগল এবং কবুতরের বড় খামার বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবার সৈয়দ আন্তাজ উদ্দিনের মেয়ে নারী উদ্যোক্তা সৈয়দা মাহফুজা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, এলাকার একটি দুষ্টচক্র শুরু থেকে প্রতিটি কাজে বাধা দিয়ে আসছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েক লাখ টাকা দান-সাহায্য করেছি। এখনো নিয়মিত চাঁদা চাচ্ছে। চাঁদা না পেয়ে খামারে হামলা চালিয়ে লুটতরাজ করেছে। এমন কি তারা হয়রানি করতে মামলা-হামলা ও হুমকির আশ্রয় নিচ্ছে। মামলা চালানোর পাশাপাশি তারা বিশাল অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদার টাকা পরিশোধ করা হলে মামলা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে বলেও তারা প্রস্তাব দিচ্ছেন। এসবের কারণে খামার পরিচালনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। প্রাণী সম্পদ বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগীতা না পেলে এ প্রকল্প করতে পারবো কিনা জানিনা।
এ বিষয়ে গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া পারভেজ বলেন, নারী উদ্যোক্তা যেই দুগ্ধ খামার করেছে তার প্রত্যায়ন আমি দিয়েছি। এটি এলাকার দুগ্ধ চাহিদা পূরণ করবে। তবে কে বা কারা তাকে বাঁধা দিচ্ছে বা চাঁদা চাচ্ছে এ বিষয়টি আমার নলেজে নেই।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দীনেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, প্রাণিসম্পদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হচ্ছে ডেইরি খামার। সাহসী নারী উদ্যোক্তা মাহাফুজা আক্তার রাজাপুরে ছোট বড় প্রায় ৯৩টি ডেইরি খামারের মধ্যে জেনারেল অ্যাগ্রো পার্ক নামে খামারটি সর্ম্পন্ন আধুনিক ব্যবস্থায় গড়ে তুলেছেন। এধরনের একটি খামারে স্থানীয় কুচক্রিদের বিঘ্ন সৃষ্টি করা দুঃখজনক। আমাদের পক্ষ থেকে এ নারী উদ্যোক্তা মাহাফুজা আক্তারকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করবো। আমার ধারনা খামারটি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে বরিশাল বিভাগের মধ্যে সেরা খামারের স্থান অর্জন করবে এ নারী উদ্যোক্তা।









