- ছুটির দিনে বেশি বিক্রি, অন্যদিনে ফাঁকা
- দূরের মানুষ কম, কেনাকাটায় অনিহা
- চোখ রাঙাচ্ছে ওমিক্রন, আতঙ্ক বাড়ছে
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজধানীর বাইরে। ২৬তম এই আয়োজনের স্থান হয়েছে রাজধানীর অদূরে পূর্বাচল উপশহরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে। যা রাজধানীর আগের বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার এবং কুড়িল বিশ্বরোড থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে। এদিকে মাসব্যাপী এ মেলা সফলভাবে সমাপ্ত করতে চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
একদিকে ঢাকার মূল কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব বেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ কষ্টসাধ্য। আবার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টও বাড়ছে। যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তা যদি আগামীতেও অব্যাহত থাকে তাহলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। এ অবস্থায় যেকোনো সময় মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন অংশগ্রহণকারী। এদিকে করোনা মহামারি আবার ইউরোপসহ অন্যান্য কিছু দেশে নতুন রূপে ছড়িয়ে পড়ায় এবারের বাণিজ্য মেলায় দেশের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও কিছুটা কম।
গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে যারা মেলায় এসেছেন তাদের বেশিরভাগই দর্শনার্থী। ঘুরেফিরে দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন। কমসংখ্যক মানুষকে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। বাণিজ্য মেলায় স্টলে জায়গার সংকট আর ক্রেতা-দর্শনার্থীর কমতির কারণে পণ্য বিক্রির চেয়ে বিপণনের দিকে বেশি জোর দিচ্ছে বড় কোম্পানিগুলো। স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, জায়গার অভাবে তারা সব পণ্য প্রদর্শনের জন্য রাখতে পারছেন না। তাই তারা অনলাইনে বেচাকেনা ও প্রচারণাতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, মেলা রাজধানী থেকে দূরে হওয়াতে রাজধানীর মানুষজন কম আসছে। যারা আসছেন তারা আশেপাশের এলাকার। তারা প্রকৃতপক্ষে ক্রেতা নন, শুধুমাত্র দর্শক। তাদের দিয়ে বাণিজ্য মেলার সার্থকতা আসবে না। তবে মেলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার থেকে মেলায় আগতদের সংখ্যা বাড়তে পারে।
মেলায় দিনের বেলা দর্শনার্থী থাকে খুবই কম থাকে। এখনো ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যে ডিসকাউন্ট না দেয়ায় এমনটা হচ্ছে দাবি দর্শনার্থীদের। তাই দিনের বেলায় স্থানীয় লোকজন আর ব্যবসায়ী পক্ষ ছাড়া তেমন কাউকে দেখা যায় না। ব্যবসায়ীদের দাবি গত ১ সপ্তাহে ছুটির দিন ছাড়া খুব একটা জমেনি এ মেলায় বেচাকেনা। তাই সপ্তাহের ছুটির দিনের অপেক্ষায় তারা।
খাবার হোটেলগুলোতে রাখা হচ্ছে যা খুশি তাই মূল্য। যদিও খাবারের মূল্য টাঙিয়ে রেখেছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অধীনস্থ হোটেল অবকাশ। তবে তাদের খাবার হোটেলের সব খাবারের দাম সাধারণের হাতের নাগালের বাইরে। মেলায় গেটে চেকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। টিকেট কাটার পর সারিবদ্ধভাবে সবাই মেলায় প্রবেশ করছে। এছাড়া নারী পুলিশ সদস্যদরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
ইমিটেশনের গয়না, কসমেটিকস, শাড়ি, থ্রি-পিস ও জুতার স্টলগুলোতে নারী ক্রেতাদের সংখ্যা বেশি। মেলায় এসেছে বাহারি রঙের বিভিন্ন দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস এ ইমিটেশনের গয়না। দেশীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের প্যাভিলিয়নগুলোতে নতুন পণ্য, দরদাম, অফারের খোঁজ নিতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তাছাড়া প্লাস্টিক পণ্য, অ্যালুমিনিয়ামের গৃহস্থালি (ক্রোকারিজ), ইমিটেশনের গয়না, কসমেটিকসের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক।
মাসব্যাপী মেলায় এবার দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ-সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমেলা প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে খোলা থাকছে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলার প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০ টাকা ও শিশুদের ২০ টাকা। এছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভার থেকে মেলা প্রাঙ্গণে যাতায়াতের জন্য ৩০টি বিআরটিসির বাস চলবে। ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। ইপিবি জানিয়েছে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লে বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
আনন্দবাজার/শহক









