- ছাব্বিশ কোটি টাকায় ওসমানী বিমানবন্দরে হচ্ছে
- ‘এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স’ এ ধারণক্ষমতা প্রায় ১০০ টন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটি পণ্যের চাহিদা থাকলেও বিভাগীয় এ শহর থেকে রয়েছে আকাশপথে রফতানির প্রতিবন্ধকতা। তবে সে বাধা দূর হচ্ছে শিগগিরই। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মিত হচ্ছে বিশাল ‘এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স’। আগামী মাসে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সিলেটে খুলতে যাচ্ছে রপ্তানি বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।
ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটের শাকসবজি, আনারস, লেবুজাতীয় ফল, পান, ফ্রোজেন ফিশ, নানাজাতের সুগন্ধি চাল, বেতের আসবাবপত্র, নকশিকাঁথা এবং কুঠির শিল্পের বিশাল বাজার রয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের বিশাল অংশ সিলেটি হওয়ায় সেখানকার বাজারে সিলেটের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক। তবে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রফতানি উপযোগী কার্গো টার্মিনাল না থাকায় সিলেটের শাকসবজি ও ফলমূলসহ বিভিন্ন পণ্য এবং জিনিসপত্র বৃহৎ পরিসরে সরাসরি বিদেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। সিলেটে এমন প্রতিবন্ধকতা থাকায় বর্তমানে ঢাকার শ্যামপুরের অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে প্যাকেজিং করে কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট নিতে হয় এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে পণ্য পাঠাতে হয় বিভিন্ন দেশে। ফলে বিশাল অংকের বিদেশি মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিলেট।
এদিকে, এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। সিলেটের ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৃহত্তর এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কৃষিমন্ত্রী বরাবরে ঢাকার শ্যামপুরের ওয়্যারহাউসের সকল সুবিধা সিলেটে দিতে আবেদন করা হয়েছে। ‘এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স’র কাজ সম্পন্ন হলে শিগগিরই মিলবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন- এমনটি আশা সিলেট চেম্বার কর্তৃপক্ষের।
অপরদিকে, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আবদুল মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর ওসমানী বিমানবন্দর নিয়ে একটি মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করেন। এ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরটির রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ, বোডিং ব্রিজের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সুপরিসর এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বোপরি বৃহৎ পরিসরে সিলেট থেকে পণ্যরপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে গ্রহণ করা হয় এ প্রকল্প। প্রকল্পটির আওতায় গত বছরের (২০২০) ফেব্রুয়ারিতে ওসমানী বিমানবন্দরে ‘এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স’ নির্মাণের প্রথম অংশের কাজ শুরু হয়। আর দ্বিতীয় অংশের কাজ শুরু হয় চলতি বছরের (২০২১) আগস্টে। বর্তমানে কার্গো কমপ্লেক্সের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী জানুয়ারিতে এর কাজ শেষ হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, নির্মিতব্য ‘এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স’র ধারণক্ষমতা প্রায় ১০০ টন। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ‘এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স’র জন্য একটি এক্সক্লুুসিভ ডেডিকেশন সিস্টেম স্ক্যানার মেশিনও স্থাপন করা হয়েছে।
হাফিজ আহমদ আরও জানান, কার্গো কমপ্লেক্স ও আনুষাঙ্গিক সব কাজ সম্পন্নের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসবে। পরিদর্শন শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই সিলেট থেকে পণ্য রফতানির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। ফলে সিলেটের অর্থনীতির চাকা হবে আরও গতিশীল। এছাড়া ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে উৎপাদিত গার্মেন্টস পণ্য এ বিমানবন্দর দিয়ে রপ্তানি সহজ হবে।
সিলেটি পণ্য রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে সিলেটের শাক-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ওসমানী বিমানবন্দরে বিশাল কার্গো টার্মিনাল ও এক্সপোর্ট কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ নেওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সিলেটিদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতির পালে লাগবে নতুন হাওয়া।
আনন্দবাজার/এম.আর









