- ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক চার লেনের কাজে কচ্ছপ গতি
ধীর গতিতে চলছে ঢাকা রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নিতনকরনের কাজ। আর তাই নির্মাণাধীন সড়কের ধুলাবালিতে বিপর্যস্ত রাস্তায় চলাচলকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে ধুলাবালির এমন অবস্থা চলমান থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বাজারের দোকানিরাও পড়েছেন চরম বিপাকে।
জানা যায়, এশিয়ান হাইওয়ে সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এর অধীনে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা থেকে বগুড়া হয়ে রংপুরের মর্ডানমোড় পর্যন্ত ১৯০ দশমিক ৪ কিলোমিটার রাস্তা ৪ লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে। এ প্রকল্পে বগুড়ার বনানী থেকে শিবগঞ্জের মোকামতলা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার অংশের কাজ পেয়েছে কেএমসি-মনিকো জয়েন্ট ভেঞ্চার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ শেষ করতে প্রথমে তিন বছর সময় বেধে দেয়া হলেও কাজের ধীর গতির কারণে আগামী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনরায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির কর্তারা বলছেন, গেলো তিন বছরে মহাসড়কের এ অংশে ৪১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে মহাসড়কের শিবগঞ্জের মোকামতলা, পল্লীবিদ্যুত অফিস, চোকিরঘাট, কাগইলের রাস্তা, চন্ডিহারা, মহাস্থান, গোকুলসহ বগুড়া সদরের বনানী পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা যায় রাস্তার বেহাল অবস্থা। কাজ চলমান থাকায় ওইসব এলাকা ধুলায় একাকার হয়ে গেছে। যানবাহনের চলাচলে মহাসড়কের আশপাশের ঘর-বাড়ি, দোকান, গাছপালা ধুলায় ছেয়ে গেছে। সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় ধুলায় কিছুই দেখা যায় না এমনকি নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় চালক, যাত্রী ও পথচারীদের। এছাড়া মহাসড়ক সংলগ্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা ও মসজিদে নামাজ আদায় করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মোকামতলা এলাকার বাসিন্দা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক শাজাহান আলী জানান, মহাসড়কে উঠলেই জামা কাপর ধুলাতে সাদা হয়ে যায়। ধুলার কারণে বাহিরে বের হওয়াই যাচ্ছেনা। আর কতদিন এ কষ্ট সইতে হবে জানিনা।
এ রাস্তায় চলাচলকারি জাহান পরিবহনের এক যাত্রি জানান, মাস্ক পরে কোনো রকম নাক ও মুখ ধুলাবালির হাত থেকে রক্ষা পেলেও জামাকাপড় ধুলাতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাথার চুল ধুলায় সাদা হয়ে যায়।
মহাস্থান এলাকার গোলাম রব্বানী শিপন জানান, মহাসড়কে কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ২৪ ঘণ্টায় এ মহাসড়কে ধুলিঝড়ের মতো ধুলাবালি উড়ে। প্রায় সব সময়ই এ রাস্তায় যানবাহন চলাচল করে। প্রতিবার গাড়ি যাবার সঙ্গে সঙ্গে ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায় রাস্তা।
চন্ডিহারা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি জানান, রাস্তার ধুলার কারণে মাঝে মাঝে শুকনো কাশি হচ্ছে। শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। এছাড়া শ্রেণি কক্ষেও ধুলা পড়ছে।
মোকামতলা বন্দরের কনফেকশনারি দোকানী আবু রায়হান জানান, ধুলাবালির কারণে দোকানের জিনিসপত্র পুরাতনের মতো হয়ে যায়। সব সময় পরিস্কার করতে হচ্ছে। আমরা ধুলার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি।
শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তারকনাথ কুন্ডু জানান, ধুলাবালির কারণে মানুষের ফুসফুসের ক্ষতি হয়। যা পরবর্তীতে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়ার পরিচালক, সুফিয়া নাজিম আনন্দবাজারকে জানান, ধুলাবালিতে পরিবেশ ধূষিত হয়। রাস্তার কাজ চলাকালে ধুলাবালির কারণে যেন পরিবেশ দূষিত না হয় সেজন্য মাসিক সমন্বয় বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবেও সড়ক বিভাগের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব আনন্দবাজারকে জানান, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া এ কাজের সময় বেধে দেয়া হয়েছিলো তিন বছর। কিন্তু পরে তা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বনানী থেকে মোকামতলা অংশের রাস্তার কাজ প্রায় ৪১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কাজের কারনে সৃষ্ট ধুলাবালি থেকে রক্ষা পেতে এ অংশে দিনে তিনবার করে পানি ছিটানো হচ্ছে।









