বিশ্ববাজারে অর্ধেকে নেমে এসেছে এলপিজি গ্যাসের দাম। এলপিজি তৈরি হয় প্রপেন ও বিউটেন নামের গ্যাসের মিশ্রণে। এই গ্যাস দুটির দাম গত এক মাসে কমে অর্ধেকে চলে আসে।
তবে এটি সুখের সংবাদ হলেও বাংলাদেশের জন্য কতটা ফল বয়ে আনবে তা বিবেচ্য বিষয়। কারণ দেশে দর কমার বিষয়টি নতুন দামে গ্যাস আমদানি ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে থাকে। আবার এই পড়তি দর কতটা স্থায়ী হবে সেটা ভাবার বিষয়।
সৌদি আরামকো প্রতি টন প্রপেনের দাম নির্ধারণ করেছে ২৩০ মার্কিন ডলার, যা আগের মাসে ৪৩০ ডলার ছিল। অন্যদিকে বিউটেনের দাম ঘোষণা করা হয়েছে ২৪০ ডলার, যা আগের মাসে ছিল ৪৮০ ডলার।
বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো প্রায় ৩০ শতাংশ প্রপেন ও ৭০ শতাংশ বিউটেনের মিশ্রণে এলপিজি বাজারজাত করে। দাম এভাবে কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে রাশিয়া ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব এবং করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক মন্দাকে দায়ী করা হচ্ছে।
কোম্পানিগুলো সাধারণত আমদানিমূল্যের কয়েক মাসে গড় ধরে দেশের বাজারমূল্য ঠিক করে, যাতে বিশ্ববাজারে হঠাৎ ওঠানামার ব্যাপক প্রভাব দেশের বাজারে না পড়ে।
এলপিজি সরবরাহকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এলপিজির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. জাকারিয়া জালাল বলেন, ‘বিশ্ববাজারে দাম কমেছে। এটা সুখবর। কিন্তু সেই কম দামের গ্যাস দেশে আনা এখন চ্যালেঞ্জের। আবার দেশে আনার পর মানুষের হাতে পৌঁছানো আরেকটি চ্যালেঞ্জ। কারণ কোনো পরিবেশক এখন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পৌঁছাতে পারছে না। সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত।’
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে এই পড়তি দাম যদি টেকে এবং দেশে সরবরাহ করা যায়, তাহলে অবশ্যই ক্রেতারা সুফল পাবে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাবে, দেশে এলপিজির চাহিদা ছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার টন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে এলপিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ।
আনন্দবাজার/শহক








