করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে সাম্প্রতিক গোটা বিশ্বজুড়ে ক্রিসমাস, নববর্ষ, পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস, মা দিবসসহ নানা দিবস আর উপলক্ষ্যে ফুলের চাহিদা বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ফুলের বাণিজ্যিক উৎপাদনও।
ফুল ভালোবাসা ও শান্তির প্রতীক। হাজার হাজার বছর ধরে উৎসব আর আনন্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে ফুল। তবে কোনো উৎসবের জন্য যতো ফুল দরকার তা বাসায় উৎপাদন সম্ভব নয়। সেজন্যই ফুল কিনতে হয়। ফুলের এই চাহিদা ঘিরে বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে বাণিজ্যিকভিত্তিক ফুল চাষ। তৈরি হয়েছে ফুলের বিশ্ব বাজার। ফুলের বাণিজ্যিক চাষের মাধ্যমেই বিশ্ববাজারে ফুলের যোগান আসে।
করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে সাম্প্রতিক গোটা বিশ্বজুড়ে ক্রিসমাস, নববর্ষ, পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস, মা দিবসসহ নানা দিবস আর উপলক্ষ্যে ফুলের চাহিদা বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ফুলের বাণিজ্যিক উৎপাদনও। নিজ দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে অন্য দেশেও।
অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ সময়ে একদেশ থেকে আরেক দেশে ফুলের মতো দ্রুত পচনশীল জিনিসও পরিবহন সম্ভব হয়েছে। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কলম্বিয়া বা ইকুয়েডর। এসব দেশে উৎপাদিত গোলাপ রপ্তানি করা হয় আফ্রিকা থেকে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের বাজার পর্যন্ত। এশিয়ার বহু দেশ যেমন চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া থেকে প্রচুর ফুল রপ্তানি করা হয়। রপ্তানিতে পিছিয়ে নেই আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতও।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিগত ২০১৭ সালে বিশ্বে ফুলের আন্তর্জাতিক বাজারের আকার ছিল ৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন বা ৮৪৮ কোটি ডলারের। টাকার হিসেবে যার আকার দাড়ায় প্রায় ৭২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। তবে গেল কয়েক বছরে ফুলের বাজার আরো সম্প্রসারিত হয়েছে। বহু দেশে বাণিজ্যিকভিত্তিক চাষ ও রপ্তানিখাতে ফুল থেকে আয় বেড়েছে। বলা যায়, এখন বিশ্বজুড়ে এক লাখ কোটি টাকার ফুলের বাজার গড়ে উঠছে।
সূত্রমতে, বিগত ১৯৯৫ সালের তুলনায় বর্তমানে ফুলের বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে ৪৬ শতাংশ। পাশাপাশি উৎপাদনের দিক দিয়েও ফুলের বিশ্ববাজারে শীর্ষে উঠে এসেছে নেদারল্যান্ড। এর পরেই ফুল রপ্তানিতে নাম উঠে এসেছে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, কেনিয়া, ইথিওপিয়ার।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি ফুল আমদানি করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিয়িলন ডলারের ফুল আমদানি করা হয়। এরপরের অবস্থানে আছে জার্মানি (১.২ বিলিয়ন ডলার), যুক্তরাজ্য (৯৭৩ মিলয়ন ডলার), নেদারল্যান্ড (৯২০ মিলিয়ন ডলার) এবং রাশিয়া (৪৪৫ মিলিয়ন ডলার)। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের তথ্য অনুসারে, আগামীকাল বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা দিবসে ভোক্তাদের ব্যয় ২৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। টাকার অংকে যা ২ লাখ কোটি টাকার বেশি। ক্যান্ডি আর গ্রিটিংস কার্ডের সঙ্গে যেখানে উপহার হিসেবে থাকবে ফুল।









