কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর এলাকার সবজি চাষী রনজিত রায়। দীর্ঘ পনের বছর ধরে অনান্য শাকসবজি চাষের পাশাপাশি ফুলকপি চাষ করেন তিনি। এবারও ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭৭ শতক জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ করেছেন। কিন্তু ফুলকপি হলুদ বর্ণ ধারন করায় দাম নিয়ে শঙ্কিত তিনি।
প্রথমে বাজারে ফুলকপির চাহিদা অনেক বেশি থাকায় প্রতিমন ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি করলেও পর্যায়ক্রমে সর্বত্র ফুলকপির উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরে ধীরে দামও কমে এসেছে। কিছুদিন আগেও ১২০০ টাকা প্রতিমন বিক্রি করলেও বর্তমানে চাহিদা কমে আসা এবং ফুলকপি হলুদ বর্ণের হওয়ায় পাইকারদের কাছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে প্রতিমন বিক্রি করছেন। সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর এলাকায় গিয়ে এ তথ্য জানাযায়।
ফুলকপি চাষী রনজিত জানান, লাভের আশায় ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭৭ শতক জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ করেছেন তিনি। এতে তার প্রতি শতক জমিতে ব্যয় হয়েছে ১০০০ টাকা করে। প্রথমে বাজার দর ভালো থাকায় প্রতিমন ১৬০০ টাকা দরে ৭ মন বিক্রি করে লাভের আশা করছিলেন তিনি।
কিন্তু ধীরে ধীরে ফুলকপির হলুদ বর্ণ ধারণ ও চাহিদা কমে আসায় দামও কমে যায়। বাধ্য হয়ে তিনি ১২০০ থেকে শুরু করে ৮০০ টাকায় প্রতিমন বিক্রি করছেন। এখন পর্যন্ত ৬৬ মন ফুলকপি বিক্রি করেছেন তিনি।
রনজিত বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফুলকপির চাষ করি। এবারও লাভের আশায় ধারদেনা করে আগাম ফুলকপি চাষ করেছি। কিন্তু অনেক ফুলকপির রং সাদা হলেও আমার চাষকৃত জমির অধিকাংশ ফুলকপি হলুদ বর্ণের হয়েছে। চাষকৃত ফুলকপির তিন ভাগের দুই ভাগই বিক্রি করেছি। প্রথম বিক্রিতে লাভের আশা থাকলেও এখন আর লাভের আশা নেই।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামার বাড়ি অফিস সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় ৭০০০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৩০০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২১৪ হেক্টর জমিতে ফুলকপির চাষ হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা দধিচি মোহন বৈষ্ণব জানান, উপজেলার ৭০২ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৫৬৬ হেক্টর জমিতে শাক-সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হেক্টর জমিতে ফুলকপির চাষ হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সম্পা আক্তার বলেন, কি কারণে ওই কৃষকের ফুলকপির রং হলুদ হয়েছে তা না দেখে বলতে পারব না। বীজের মান ভালো না হলে, কিংবা সুষম সারের ব্যবহার না হলেও ফুলকপির বর্ণ হলুদ হতে পারে।
আনন্দবাজার/শহক









