সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে বন্ধ দেওয়া হয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এতে সংক্রমন রোধ করা গেলেও কিশোরদের মধ্যে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অপরাধপ্রবণতা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং কোন কাজের চাপ না থাকায় তাদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ইতোমধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১২ দফা সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদনও তৈরি করেছে সংস্থাটি।
কিশোর গ্যাং নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামসহ দেশের নানা স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অনেক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের এখন মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা, অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, ধর্ষণ, পাড়া-মহল্লায় নারী ও কিশোরীদের উত্ত্যক্ত করা, খুন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হতে দেখা যাচ্ছে। এদের কখনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবস্থান অথবা কখনো সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়ে তারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমে বড় ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ঢাকায় আকস্মিকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠা এ কিশোর গ্যাংয়ের হটস্পট হিসেবে ঢাকার ১০টি এলাকাকে শনাক্ত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। এলাকাগুলো হচ্ছে ডেমরা, সূত্রাপুর, সবুজবাগ, খিলক্ষেত, কোতোয়ালি, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, খিলগাঁও, দক্ষিণখান ও টঙ্গী। এসব এলাকায় ৩২টি কিশোর গ্যাং নানা অপরাধের সাথে জড়িত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং করোনাকালে কিছুদিন কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কম দেখা গেলেও বর্তমানে আবারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাদের অপরাধ প্রবণতা।
জানা গেছে, বর্তমানে এমন ৩২টি কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িত রয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ কিশোর। এসব গ্যাং একটি আরেকটির সাথে বিবাদে জড়িয়ে সংঘর্ষ-খুনোখুনির মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে তারা। তবে এই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতে বিগত সময়ের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
এই ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা জানান, পুলিশ চেষ্টা করছে, কিন্তু শুধু আইন প্রয়োগ করে এটা নিয়ন্ত্রণ বা এর সমাধান করা সহজ নয়। এর সাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন ধরনের বিষয় জড়িত রয়েছে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে এ ব্যাপারটি সমাধানের চেষ্টা থাকা উচিত।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









