গত এক সপ্তাহের তুলনায় খোলা বাজারে আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ টাকা। হঠাৎ করে আটা ও ময়দার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিরুপ প্রভাব পড়েছে সোনারগাঁয়ের খাবার হোটেলগুলোতে। বিশেষ করে সকালের নাস্তায় হোটেলগুলো এ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। আটা ও ময়দার দামের সঙ্গে তেল ডিম ও সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বেড়েছে সকালের নাস্তা পারোটার দাম। আগে প্রতি পিছ পারোটার দাম ছিল ১০টাকা বর্তমানে প্রতি পিছ পারোটা বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। পারোটার সঙ্গে বেড়েছে ডিম ও সবজির দাম। সে কারণে আগে যারা নিয়মিত হোটেলে নাস্তা করতেন এখন তারা একেবারে প্রয়োজন ছাড়া হোটেলে আসেন না। ফলে সকালের নাস্তার ক্রেতা কমে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে হোটেল মালিকদের।
উপজেলা ব্যস্ততম বাজার মোগরাপাড়া চৌরাস্তার বিভিন্ন মুদি দোকানগুলোতে ঘুরে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি আটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ময়দাসহ অন্যান্য জিনিসের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে আটা ও ময়দায় বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা। আগে যেখানে প্রতি কেজি আটার মূল্য ছিল ৩৭ টাকা সেই আটা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৪ টাকায়। প্রতি কেজি ময়দার মুল্য ছিল এক সপ্তাহ আগে ৪৭ টাকা বর্তমানে সেই ময়দা বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০ টাকায়। আগে প্রতি পিছ ডিমের দাম ছিল ৭/৮ টাকা এখন সেই ডিম খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১০টাকা। এছাড়া খোলা তেল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা। তাছাড়া সব কিছুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিভিন্ন সবজির দামও।
মোগরাপাড়া বাজারে সবজি বিক্রেতা ফারুক জানান, এখন বৈশাখ মাস শেষ হয়ে জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে সারাদেশে ঝড় তুফান ও বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়ার কারণে অনেক সবজির দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি সবজি দাম আগের তুলনায় বেড়েছে ৫/১০ টাকা।
উপজেলার হাবিবপুর এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ওকিলের পারোটা নামে খ্যাত হোটেলের মালিক ওকিল উদ্দিন জানান, আটা, ময়দা, ডিম, তেল ও সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় তারাও বাধ্য হয়ে ১০ টাকার পারোটা বিক্রি করছেন ১৫ টাকা, প্রতি পিছ ডিম আগে বেজে বিক্রি করতেন ১৫ টাকা এখন বিক্রি করছেন ২০ টাকায় ও আগে যেখানে ১০ টাকা সবজি দিয়ে পারোটা বিক্রি করতেন এখন ১০ টাকার পরিবর্তে সবজির মূল্য রাখছেন ২০ টাকা। তিনি জানান, সব কিছুর মূল্য বেড়ে যাওয়া কারণে তিনিও বাধ্য হয়ে পারোটারসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বাগতির কারণে হোটেল স্টাফদের বেতনও বাড়ানো হয়েছে। সবকিছু বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন হোটেলে আগের মতো সকালে কাস্টমারও আসেনা। তিনি জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে নাস্তা বিক্রি হতো ২০ হাজার টাকা এখন তা অর্ধেকে নেমে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার হোটেলের এ অবস্থা। এভাবে বেচাবিক্রি কমতে থাকলে ঐহিত্যবাহী তার পারোটার হোটেলটিতে পারোটা বিক্রি বন্ধ করে দিতে হবে বলে তিনি জানান।
ওকিলের দোকানে নাস্তা করতে আসা খোকন জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ এ হোটেলটি থেকে নাস্তা কিনে খাই ও পরিবারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাই। কিন্তু গত এ সপ্তাহের ব্যবধানে পারোটাসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অতি প্রয়োজন ছাড়া হোটেলে আসা বন্ধ করে দিয়েছি। এখন বাড়িতেই কষ্ট করে নাস্তা বানিয়ে খাই।









