খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন, সুনামগঞ্জে সম্প্রতি বোরো ফসলের কিছু ক্ষয়-ক্ষতি হলেও চাষাবাদ হয়েছে অনেক বেশি। এ থেকে আমাদের ধান-চালের শক্তিশালী একটি মজুদ গড়ে উঠবে। এছাড়াও গত মৌসুমের আউশ ও আমন ধানেরও আমাদের প্রচুর মজুদ রয়েছে এবং সুবৃষ্টির কারণে আগামী আউশ ফসলও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই দেশে কোনোভাবেই খাদ্যসংকট তৈরি হবে না। গতকাল রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট সদর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগীয় শহরে স্থাপন করা হবে আধুনিক ‘রাইস সাইলো’। এ জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জায়গা পাওয়া গেলেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুরু হবে এর কাজ। সিলেটে ‘রাইস সাইলো’ হলে ধানসহ কয়েক হাজার মেট্রিক টন খাদশষ্য মজুদ করে রাখা যাবে।
তিনি আরও বলেন, গত এক বছর থেকে আমরা বিদেশ থেকে কোনো চাল আমাদানি করিনি। আমাদের কৃষকদের উৎপাদিত ধান দিয়েই চালের চাহিদা মিটছে। তবে গম আমাদের দেশে হয় না, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। গম আমদানি করা হতো ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে। কিন্তু এ দু দেশের যুদ্ধের পর আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন গম আমদানি করেছি। পরবর্তীতে যা দরকার তাও ভারত থেকে আমদানি করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে গম রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ভারত বেসরকারিভাবে রপ্তানি বন্ধ করলেও সরকারিভাবে বন্ধ করেনি। হয়তে এক মাস বা ১৫ দিন পর সেই নিষেধাজ্ঞা তারা তুলে দিবে। তাই আমাদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তাদের উৎপাদিত গম তাদেরকে তো বিক্রি করতেই হবে।
কৃষকের ধানের সরকারি দামের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের সাহয্য করে এবং ঘোষণা দিয়ে দাম নির্ধারণ করে তাদের কাছ থেকে ধান কেনে। কৃষকরা যাতে বাজারে অন্যের কাছে ধান বিক্রি করে না ঠকে তাই এমনটি করা হয়। এবার ধানের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা আর বাড়ানো হবে না।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি একটি ফ্লাইটে গতকাল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। সেখান থেকে সিলেট সদর খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে সিলেট সার্কিট হাউসে কিছু সময় অবস্থান করে মন্ত্রী সুনামগঞ্জে গিয়ে হাওররক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন।









