উঠে গেল করোনাকালীন নিষেধাজ্ঞা
পর্যটনশিল্পে বিদেশিদের জন্য করোনাকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এই ঘোষণা দিয়েছে করোনা বিষয়ক জাতীয় কমিটি। করোনায় সারা বিশ^ই পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল। বাংলাদেশেও বিদেশিদের আগমন বন্ধ ছিল। গতকাল থেকে সেই নিষেধাজ্ঞ তুলে দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় এবার প্রচুর সংখ্যক বিদেশি বাংলাদেশে আসবেন।
গতকাল সোমবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ভবনে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এমপি। তিনি জানান, এবারে বিশ্ব পর্যটন দিবসের স্লোগান হচ্ছে ‘পর্যটনের নতুন ভাবনা’।
দৈনিক আনন্দবাজারের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের জানান, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ৩ লাখের অধিক বিদেশি পর্যটক এসেছিল। কতগুলো দেশের সঙ্গে পর্যটনশিল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাব প্রতিমন্ত্রী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এড়িয়ে যান।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলী কদর প্রমুখ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটনখাতে কোভিড-১৯ কাটিয়ে উঠতে ‘ট্যুরিজম রিকোভারি প্লান’ তৈরি করা হয়েছে ও তা বাস্তবায়নে ২০টি গাইডলাইন পস্তুত করা হয়েছে। তা ছাড়া অভ্যন্তরীণ পর্যটন বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য ই-ভিসা সার্ভিস চালু, ভিসার সময় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোকে সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ও তারা তা যথাযথভাবে তুলে ধরছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটনমিল্পে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কি পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে তা নিরূপণের জন্য ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপন্ট স্ট্র্যাটেজি’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তাছাড়া জাতীয় পর্যটন নীতিমাল-২০১০ যুগোডযোগী করণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কি ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে প্রশ্নের জবাবে মোকাম্মেল হোসেন বলেন, পর্যটন পুলিশদের কর্মপরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি পর্যটনস্থান যাতে সবাই নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলতে পারে সে জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছ। তাছাড়া নিরাপত্তা বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। আর প্রচার-প্রসার বিষয়ে বলেন, এখন থেকে ‘মুজিব’স বাংলাদেশ’ নামে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর হতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশের দূতাবাসগুলো পর্যটক আকর্ষণে প্রচার কাজ চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যটনে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ছিল তা কাটিয়ে উঠে কাজ করা হচ্ছে। পর্যটনে সরাসরি ১১টি ও সহযোগিভাবে ৩৩টি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।









