- পাঠদান ব্যাহত, কমছে শিক্ষার্থী
- সাইক্লোন শেল্টার করার প্রাস্তব
২০১৯ সালে নতুন ভবন তৈরির বাজেট ছিল। তবে মালামাল পৌঁছানোর ব্যবস্থা না থাকায় কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এলাকাটি নিচু হওয়ায় নতুন করে সাইক্লোন শেল্টার করার জন্য প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে: মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তালা, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার সমনডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমস্যার শেষ নেই। বছরের প্রায় ৯ মাস পানিতে ডুবে থাকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ। এতে যোগ হয়েছে কচুরিপানা। তবে এতসব সংকটের মধ্যেও চলছে পাঠদান।
সরেজমিনে দেখা যায়, তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের সমনডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে নির্মিত হয়। এতে ব্যয় হয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। দীর্ঘসময় পার হওয়ায় কয়েক বছর ধরে ভবনটির ছাদের পলেস্তার ধসে পড়তে শুরু করেছে। এরমধ্যে অপরিকল্পিত মৎস্যঘেরে যোগ হয় জলাবদ্ধতা। প্রতিবছর বৃষ্টির মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠে জমতে থাকে পানি। ধীরে ধীরে তা ঢুকে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। এসময় পুরো ভবনটি হাটু পানির নিচে থেকে যায় কয়েক মাস। সে কারণে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের এককোণে একটি টিনের চাল দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। যেখানে রাখা হয়েছে একটি টেবিল ও ৫টি বেঞ্চ। বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়ালেখা করতে বাধ্য হয়। তাছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয় কচুরিপনাসহ বিভিন্ন বিষাক্ত জলজপ্রাণিও রয়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মান। আর তাই ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরাও। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভবনের কক্ষে দরজা-জানালা কিছুই নেই। বিদ্যালয়ের ভিতরে জনসাধারণ প্রবেশ উন্মুক্ত থাকায় পানি শুকিয়ে গেলেও সেখানে পাঠাদানের কোনো পরিবেশ থাকে না।
কয়েকজন অবিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না। দুইটি উপজেলা ও ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর অবহেলিত। শ্রেণিকক্ষে ও খেলার মাঠে জমে থাকা পানিতে শিক্ষার্থীদের পানিবাহিত রোগ হয় বলে জানান তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমল কৃষ্ণ সরকার জানান, বর্তমানে ৫১জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি বহুবার অবহিত করেছি। কিন্তু কোনো সুফল আসেনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০১৯ সালে নতুন ভবন তৈরির বাজেট ছিল। কিন্তু ভবন তৈরির জন্য মালামাল পৌঁছানোর ব্যবস্থা না থাকাতে বাজেটটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এলাকাটি নিচু হওয়ায় বন্যায় পানি উঠে যায়। সেখানে নতুন করে সাইক্লোন শেল্টার করার জন্য প্রাস্তবনা পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, উক্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত গড়ে তুলতে অপরিকল্পিত মৎস্যঘেরের পাশ দিয়ে পানি নিস্কাশন জরুরী হয়ে পড়েছে। তাই নতুন ভবন নির্মান ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।









