আর্থিকসংকট-লাগামহীন নিত্যপণ্যের দামে
ভালো নেই নীলফামারীর ডিমলায় খুচরা ও পাইকারি পোশাক বিক্রেতারা। ঈদের বাকি আর দেড় সপ্তাহ। তবে এ এলাকায় এখনও জমে ওঠেনি ঈদ বাজার। রমজানে এ উপজেলার অধিকাংশ দোকানেই ক্রেতার দেখা মিলছে না। ব্যবসা মন্দার জন্য করোনা পরবর্তী মানুষের আর্থিকসংকট ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিকেই দায়ী করছেন ব্যাবসায়ীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, সদরের বাবুরহাট বাজারসহ উপজেলার অন্যান্য এলাকায় ক্রেতা সমাগম অনেক কম। ১৭ রমজান পেরিয়ে গেলেও ভাটা পড়েছে কাপড় ব্যবসায়। দোকানিদের দিন কাটছে ক্রেতার আশায়। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও ক্রেতার দেখা মিলছে না। দু’একজন যারা আসছেন তারা পোশাক কিনছেন সীমিত। অধিকাংশ বিক্রেতা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদুল ফিতরে মানুষ সাধারণত বেশি পোশাক কেনাকাটা করে থাকে। তবে এবার নতুন পোশাকের চাহিদা অনেক কম। তাই তাদের বিক্রির পরিমাণও কম। তারা বলছেন, রমজানের শুরু থেকেই ক্রেতারা আসতে শুরু করে। ১০ রমজান থেকে বেচাকেনা জমে ওঠে। তবে এবার ক্রেতাশুন্য।
উপজেলা সদরের আদর ফ্যাশন নামে একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাশূন্য থাকায় ১২জন বিক্রয়কর্মী বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। এ দোকানের বিক্রয়কর্মী রিয়াজুল জানান, এখন বেচাকেনা খুব কম, খুব খারাপ অবস্থা।
শুভেচ্ছা শপিং সেন্টারের মালিক আলাল ইসলাম জানান, বর্তমানে আমাদের মার্কেটে কাস্টমার পরিস্থিতি খুবই কম। রমজানের এ সময়ে আপনি এখানে ক্রেতার ভিরে দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা পেতেন না। অন্যান্য বছরে রমজানের এ সময় আমার দোকানে দৈনিক খুচরা ও পাইকারি বিক্রি ছিল ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। এবার এক লাখ টাকাও বিক্রি হচ্ছে না।
অন্যদিকে ফারুক সুজের স্বত্বাধিকারী ফরিদ জানান, দুই বছরতো করোনার কারণে ব্যবসার মূলধন হারিয়েছি। ভেবেছিলাম এবার কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠবো। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মালামাল ক্রয় করেছি। তবে চলতি বছরও হলো না। ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা এখনও জমে ওঠেনি।
এদিকে কোনো-কোনো দোকানে গিয়ে দেখা যায়, মন খারাপ করে বসে আছেন বিক্রেতারা। ক্রেতা সমাগম কম বলে অনেকটা মাথায় হাত তাদের। মানিক ফ্যাশন ও রুপের হাটের সত্ত্বাধিকারী মানিক জানান, মাথায় হাত দিয়ে বসে আছি। বেচাকেনা নাই। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগের মূলধন বাদে ঋণ নিয়ে আরও ৫০ লাখ টাকা লগ্নি করেছি। যা পরিস্থিতি তাতে কাপড় ব্যবসা বাদ দিতে হবে। করোনায় মানুষের আর্থিক সংকট ও নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতিকেই দায়ী করছেন এ ব্যবসায়ী।
করোনার কারণে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। ঈদেকে কেন্দ্র করে এ অবস্থা চলতে থাকলে আরও অনেকেই একি পথ বেছে নেবেন বলে জানান ডিমলা দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার জাহান সোহাগ।









