সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরেই মা জেসমিন আক্তারকে গুলি করে হত্যা করে ছেলে মাঈনুদ্দিন মোহাম্মদ মাঈনু (২৯)। মাকে গুলি করার আগে বোন নিপা আক্তারকেও গুলি করেছিল। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মাকে হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে সে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থেকে বাসযোগে ঢাকা যাওয়ার সময় তাকে আটক করে র্যাব।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার সময় চান্দগাঁওয়ে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাব-৭ এর অধিনায়ক কর্নেল এম এ ইউসুফ। এর আগে বুধবার বিকালে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে তাকে আটক করে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে এম এ ইউসুফ বলেন, গত ১৬ আগস্ট সকালে বোন শারমিন আক্তার নিপাকে নিয়ে ব্যাংকে গিয়েছিলেন তার মা জেসমিন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মাইনু। দুপুরে বাসায় এসেই বাকবিতন্ডতা এক পর্যায়ে সাথে থাকা পিস্তল তাক করেন মায়ের দিকে। এ সময় বোন নিপাকে উদ্দেশ্য করে প্রথম গুলি ছুড়ে সে। সৌভাগ্যবশত সে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে দ্বিতীয় গুলি ছুঁড়লে সেটা তার মায়ের চোখে গিয়ে বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মায়ের। মাঈনুর সন্দেহ ছিল সব সম্পত্তি বিক্রি করে বোনের সাথে মা জেসমিন আক্তার বিদেশে পাড়ি দেবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই মাঈনু দোহাজারি পালিয়ে যায়। সেখানে এক বড় ভাইয়ের সাহায্যে একটি ফ্যাক্টরিতে রাত্রিযাপন করে। এসময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত পিস্তলটি গুদামের একপাশে লুকিয়ে রাখে। পরে সে কেরানীহাট থেকে ঢাকাগামী একটি বাস যোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে গোপন তথ্যের সূত্রে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে পিস্তলটিও উদ্ধার করা হয়। আটক আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে নিহত জেসমিনের বড় মেয়ে শারমিন আক্তার নিপা বলেন, আমার ছোট ভাই ও আমি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। মাঈনু দেশে থাকতেন। বাবার মৃত্যুর ৪০ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমার সাথে অস্ট্রেলিয়া চলে যাওয়ার কথা ছিল মায়ের। আর ৪-৫ দিনের মধ্যেই ভিসা পাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে গেল। মাঈনু উচ্ছৃঙ্খল হওয়ায় তাকে বাবা পছন্দ করতেন না। তাই তার নামে তেমন জায়গা সম্পত্তি দিয়ে যাননি। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাকে ও মাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে।









