চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা, হানারচর ইউনিয়ন ও হাইমচর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীতে জেগে উঠা সাদুল্যাপুর চরে প্রায় ৫শ’ পরিবারের বসবাস। তবে সীমানা নির্ধারণ না হওয়ার কারণে এখানে বসবাসকারীরা সরকারিভাবে প্রাপ্ত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচন কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে খোঁজ হয় চরে বসবাসকারী মানুষের। চরের এসব মানুষকে যে কোন একটি ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করে নাগরিক সুবিধার আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে সাদুল্যাপুর চরে গিয়ে দেখা যায়, এখানে বসবাসকারী মানুষের সমস্যার চিত্র। অনেকে বহু বছর চরে বসবাস করার কারণে মায়া ছেড়ে অন্য স্থানে যেতে পারছেন না। আবার অনেকের ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ নেই। এখানকার মানুষজন কৃষি ও মৎস্য আহরণ করেই জীবন জীবীকা নির্বাহ করে। বিদ্যুৎ সমস্যার পাশাপাশি এখানে ইেন ভালো কোন শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও অত্যান্ত দুর্বল। চিকিৎসার জন্য তাদের যেতে হয় চাঁদপুর জেলা সদরে।
চরের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বেপারী বলেন, চরজেগে উঠার পর থেকে আমরা প্রায় ৫শ’ পরিবার বসবাস করি। চান্দ্রা, হানারচর ও গাজীপুর তিন ইউনিয়নের লোকজন আমাদেরকে ভোটার বলে দাবী করে। এসব টানা হেচড়ার কারণে আমরা সুবিধা বঞ্চিত। যে কোন একটি ইউনিয়নে আমাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করলে এবং সীমানা নির্ধারণ করে দিলে অসহায় পরিবারগুলো সরকারি সুযোগ সুবিধা পাবে।
চরের বাসিন্দা রেজ্জাক হাওলাদার ও হাবিব মৃধা বলেন, আমরা সীমানা নির্ধারণ ছাড়া আর কতদিন অবহেলিত থাকব। দুর্যোগ দেখা দিলে চান্দ্রা ও হানাচর ইউনিয়ন থেকে কিছুটা সাহায্য সহযোগিতা করে। তাও সকলে পায় না। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি ইউনিয়নে থাকলে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবো এবং সরকারি সব সুবিধা নিশ্চিত হবে।
মো. সোহাগ বলেন, আমাদের জন্মস্থান চরে। আমরা কোন ইউনিয়নের ভোটার এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে জানি না। সীমানা নির্ধারণ করে সকল সুযোগ সুবিধার আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি। হাইমচর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়নের একটি অংশ সদুল্যাপুর চরের পাশে আছে। কিন্ত ওই চরে হানারচর ও চান্দ্রা ইউনিয়নের লোকজন বেশী থাকে। চান্দ্রা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুজিব কবিরাজ বলেন, সাদুল্যাপুর চরে আমাদের ইউনিয়নের অল্প কয়েক পরিবার থাকে। তাদেরকে আমরা সরকারি সুযোগ সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছি। এ চরে আরো অনেক লোক বসবাস করে। কিন্তু তারা কোন ইউনিয়নের লোক তা সঠিকভাবে বলতে পারব না।
প্রবীণ ইউপি সদস্য কালু চৌকিদার বলেন, আমাদের ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। যার কারণে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের লোক এখন সাদুল্যাপুর চরে বসবাস করে। কিন্তু অন্যান্য ইউনিয়নের লোকজন একই সঙ্গে চরে থাকার কারণে এখন পর্যন্ত কোন সীমানা নির্ধারণ হয়নি। আমরা চাই সরকারের পক্ষ থেকে চরের লোকজনের সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা সঠিকভাবে করা হোক। তাহলে এখানে বসবাসকারী লোকজন তাদের ভোটাধিকার ও নাগরিক সুবিধা সঠিকভাবে পাবে।
আনন্দবাজার/এম.আর








