রংপুরের পীরগাছায় সাবেক স্ত্রীকে পুনরায় ফিরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে শ্যালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছেন এক যুবক। এ সময় সাবেক স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করাসহ তার বাবার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন তিনি। গত সোমবার রাতে উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোকন মিয়া ওই গ্রামের তয়েজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। তার বোনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সুবিদ গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মিজান মিয়ার বিয়ে হয়েছিল। এদিকে মঙ্গলবার সকালে জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুরে এক নববধূ কে হত্যার পর লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন ওই নববধূর স্বজনরা। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞেসাবাদের জন্য তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
ওসি হাবিবুর রহমান জানান, সাত দিন আগে নববধূ বিথী আক্তার বৃষ্টিকে বিয়ে করেন কুতুবপুর গ্রামের লিটন মিয়া। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নববধুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। এর মধ্যেই লাশ হতে হলো তাকে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি হাবিবুর।
অপর ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সাত বছর আগে তয়েজ উদ্দিন মাস্টারের মেয়ে সুমি বেগমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সুবিদ গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মিজান মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের চার বছর পর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর পুনরায় সাবেক স্ত্রীকে ফিরে পেতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন মিজান। তবে তাদের যোগাযোগের মধ্যে বাধা দেয় সুমির বড় ভাই রোকন মিয়া।
ঘটনার দিন সোমবার রাতে উপজেলার চৌধুরানী বাজার থেকে সুমি ও তার ভাই রোকন বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে মকরমপুর সড়কের কাছে পৌঁছালে মিজান তাদের পথ রোধ করে। পরে মিজান তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভাই-বোনকে কুপিয়ে আহত করেন।
এদিকে, রোকন ও সুমিকে কুপিয়ে মিজান তার সাবেক শ্বশুরের বাড়িতে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বাড়ির পাকা ভবন পুড়ে যায়। আগুন দেওয়ার পর নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মিজান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্বশুর বাড়ির পূর্বদিকের সড়কের ওপর পড়ে থাকা মিজানকে উদ্ধার করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এদিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত সুমি ও রোকনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমি ও অসুস্থ মিজানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই রোকনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিষপান করায় মিজানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।









