- কৃষি উন্নয়নে অবদান থাকলেও জনবল সংকটে নিভু নিভু করছে
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একমাত্র সেচ পরীক্ষা খামার রংপুরে
- নতুন নতুন জাতের প্রসার ঘটছে, ফসল চাষের কৌশলও শিখছে চাষিরা
নিরবে-নিভৃতে কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে রংপুরের মহিপুর সেচ পরীক্ষা খামার। গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নে অবস্থিত এই খামারের কার্যক্রমে সুফল পেয়ে স্থানীয় চাষিরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুড়িতিস্তা প্রকল্পের অধীনে ১৯৬০ সালে মহিপুর সেচ পরীক্ষা খামার স্থাপন করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। বুড়িতিস্তা ও তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর েেক প্রকল্প এলাকার মাটি ও কৃষি আবহাওয়া উপযোগী আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তি, শস্যবিন্যাস, ফসলের জাত নির্বাচন ও সেচের পরীক্ষা-নীরিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এই সেচ পরীক্ষা খামারের মাধ্যমে। এছাড়া প্রাপ্ত ফলাফল প্রকল্পের চাষিদের মধ্যে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ফসল আবাদ প্রদর্শন, পরীক্ষার ফলাফল প্রদর্শনের জন্য মাঠদিবস, ফসলকর্তন কার্যক্রম ও চাষাবাদ কলাকৌশল শিক্ষণের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। শুরু েেক প্রকল্পের সেচ ও কৃষি উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসলেও জনবল সংকট প্রকটসহ দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত থাকায় নিভু নিভু করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একমাত্র এই সেচ পরীক্ষা খামারটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুরের মহিপুর সেচ পরীক্ষা খামারসহ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চারটি কৃষি প্রদর্শনী খামার ছিল। সে সময় খামারগুলো থেকে কৃষি উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকার কারণে পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরার খামার তিনটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মহিপুর সেচ পরীক্ষা খামারটিই শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের একমাত্র খামার হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ৩০ একর জমির ওপর মহিপুর সেচ পরীক্ষা খামারের কার্যক্রম শুরু হয় উল্লেখ করে সূত্র আরও জানায়, তিস্তার ভাঙনে কমতে কমতে বর্তমানে এর আয়তন দাঁড়িয়েছে মাত্র নয় একরে। এছাড়া খামারে অনুমোদিত ৩৯ জনবলের মধ্যে আছে মাত্র পাঁচজন। যা দিয়েই পুরো খামারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে মহিপুর খামারের কৃষি গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের জাত পরীক্ষা, স্বল্প সেচে অধিক ফলনশীল ফসলের আবাদ, ভূ-উপরিস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বোরো ধানের ফলন পর্যবেক্ষণ, তিস্তা প্রকল্পের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী ফসল নির্বাচনী পরীক্ষা এবং লাভজনক শস্য পর্যায় নির্ধারণী পরীক্ষাসহ বহুমুখী পরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও সূত্র জানায়।
মহিপুর সেচ পরীক্ষা খামারের আওতায় আনুরবাজার এলাকার চাষি আব্দুর রহিম, মিজান উদ্দিন, সরকারটারী এলাকার নয়া মিয়া এবং বিজয় বাঁধ এলাকার আব্দুস সাত্তার জানান, এই খামারের কারণেই তারা স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল নানা ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। নতুন নতুন জাতের প্রসার ঘটছে এই এলাকায়। ফসল চাষের কৌশলও শিখতে পাছেন এই খামারের মাধ্যমে।
খামারের দায়িত্বরত উপ-প্রধান কৃষিতত্ত্ববিদ রাফিউল বারী জানান, পরীক্ষা লব্ধ ফলাফল বিভিন্নভাবে যেমন প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, চাষি সমাবেশ, শস্য কর্তন, সভা-সেমিনার, মাঠ দিবসসহ বোর্ডের পানি ব্যবস্থাপনা উইং এর মাধ্যমে প্রকল্পের চাষিদের পৌছানো হচ্ছে। প্রকল্পের স্বার্ েবিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইসস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌ সহযোগিতায় মহিপুর সেচ পরীক্ষা খামারে বিভিন্ন পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একমাত্র এই খামারের মাধ্যমে কৃষকের উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান উপ-প্রধান কৃষিতত্ত্ববিদ।









