আধুনিক যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে গ্রামঅঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের বাহন ঘোড়ার গাড়ি। তবে রাজবাড়ীর পদ্মার চরে মালামাল ও মানুষের যোগাযোগের বাহন হিসেবে এখনও ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন রয়েছে। এখানে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে নৌকা। শুকনো মৌসুমে চরাঞ্চলের যাত্রী মালামাল বহনের একমাত্র বাহন হলো ঘোড়ার গাড়ি। পানি নিচে নেমে যাওয়ায় পদ্মা নদীর চরাঞ্চল এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে চরবাসি তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ঘোড়ার গাড়িযোগে বহন করে থাকে। বিকল্প হিসেবে আবার অনেকে হেঁটেই নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটান।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে চরজাগতে শুরু করে। চরাঞ্চলে সাধারণত বাদাম, ভুট্টা, মসুর ডাল, কাউন, বোরো ধান, মিষ্টি আলু চাষ হয়ে থাকে। পদ্মারবুকে চরজেগে ওঠায় এখন চরাঞ্চলে যোগাযোগ খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দুচোখ যতদূর যায় শুধু শুকনো মাঠ আর বালু। এ কারণে চরাঞ্চলের মানুষ এবং মালামালের বাহন হিসেবে ঘোড়ার গাড়িই এখন একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরাঞ্চলের চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে তা উপজেলা সদরে বিক্রি করার জন্য নদীর ঘাটে নিয়ে আসার মাধ্যমও হলো এ গাড়ি। তবে চরাঞ্চলে রাস্তাঘাট না থাকায় অধিকাংশ ঘোড়ার গাড়ির চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ছুটে বেড়াচ্ছেন এক চর থেকে অন্য চরে।
পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের হাবাসপুর চরে ঘোড়ারগাড়ির চালক আজিজুল মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ কাম না করলে খামু কী। বাপে একবেলা কাম করলে আরেক বেলা কাম করবার পারে না। সংসার চালানোর জন্য আমিই এখন বাপের ঘোড়ার গাড়ি চালাই। সারাদিন যে টাহা আয় করি তা দিয়া সদাই করে বাড়ি ফিরি।
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সুজন বলেন, শুকনো মৌসুমে দুই চরাঞ্চলের মানুষের ও প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের একমাত্র মাধ্যম হলো ঘোড়ারগাড়ি। আমি প্রায় একযুগ ধরে এ দুটি চরে ঘোড়ারগাড়ি চালাই। তবে ঘোড়ার পেছনে য টাকা খরচ হয় অনেক সময় তা উঠাতে পারি না। প্রতিদিন ঘোড়াকে খাওয়ানোর পছনে ২শ’ টাকা খরচ আর আয় হয় তিন থেকে চারশ টাকা। ঘোড়ারগাড়ি চালিয়েই সংসার চালাচ্ছি।
পাংশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ বলেন, উপজেলার দুটি ইউনিয়ন পদ্মার চরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় তারা নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাছাড়াও চরজেগে ওঠার কারণে হাবাসপুর খেয়াঘাটে যেতে এখন তিন কিমি. চরের বালুপথ অতিক্রম করতে হয় এ ঘোড়ার গাড়িতে। শুকনো মৌসুম এলেই চরবাসির যোগাযোগের বাহন হয়ে দাঁড়ায় ঘোড়ার গাড়ি।









